মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তি প্রদর্শন: বিমানবাহী রণতরী পাঠানোয় পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০১-১৫ ২১:০২:৪৯
image

দক্ষিণ চীন সাগর থেকে একটি বিমানবাহী রণতরী ও তার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের নির্দেশনা অনুযায়ী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। এই পদক্ষেপে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
আল জাজিরার বরাতে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন না থাকায় এই বহরের আগমনকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি ওয়াশিংটনের শক্ত অবস্থানের বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এরই মধ্যে তেহরান কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আক্রমণ শুরু করে, তাহলে অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়া হবে। আইআরজিসির এরোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার মাজিদ মুসাভি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে গত বছরের ১২ দিনের সংঘর্ষের পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং দেশটি সর্বোচ্চ যুদ্ধ প্রস্তুতিতে রয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা আরও অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা উসকে দিচ্ছে এবং এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক মোতায়েন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে মাত্র ৬টি। অতীতে বিভিন্ন সংকটে যেখানে বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, সেখানে এই ঘাটতিই নতুন করে আব্রাহাম লিংকনকে পাঠানোর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, উত্তেজনার মধ্যেই ইরান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪ নিশ্চিত করেছে, নোটাম-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং তেহরানের আকাশসীমায় একাধিক বিমান প্রবেশ করছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর-এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

কী-ওয়ার্ডস:মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা,মার্কিন বিমানবাহী রণতরী,ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত