২০১৪-২০২৪ সালের তিন নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির পূর্ণ নকশা’ উন্মোচন: তদন্ত প্রতিবেদন জমা

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০১-১২ ২১:১৭:৫৮
image

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা অভিযোগগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলল জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইনসহ কমিশনের সদস্যরা। সরকারের আইন, তথ্য, শিল্প ও সংস্কৃতি উপদেষ্টারাও বৈঠকে অংশ নেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সাজানো। ওই নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাকি আসনগুলোতেও তথাকথিত প্রতিযোগিতামূলক ভোটের আয়োজন করা হয়, যা প্রকৃত অর্থে ছিল নিয়ন্ত্রিত ও সাজানো। কমিশনের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ হিসেবে উপস্থাপনের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো সেই পরিকল্পনার গভীরতা অনুধাবন না করেই নির্বাচনে অংশ নেয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মারা হয় এবং কোথাও কোথাও ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে দেখানো হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি প্রার্থী’ দাঁড় করিয়ে নির্বাচনকে কৃত্রিমভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর কৌশল নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, এই তিনটি নির্বাচন আয়োজন ও বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি বিশেষ ‘নির্বাচন সেল’ গঠন করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে যেভাবে নির্লজ্জভাবে বিকৃত করা হয়েছে, তা জাতির সামনে তুলে ধরা জরুরি। তিনি বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে এমন নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন আর কখনো নির্বাচন ডাকাতি না ঘটে, সে জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যত নির্বাচন কমিশনের হাত থেকে সরে গিয়ে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে।

কী-ওয়ার্ডস:জাতীয় নির্বাচন তদন্ত,ভোট ডাকাতি প্রতিবেদন,নির্বাচন ব্যবস্থা সংকট