ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঐতিহাসিক দেখছে ইইউ,বাংলাদেশে বড় পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০১-১২ ১০:৪৩:৫১
image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশে বড় পরিসরের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বৈঠকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভারস আইজাবস এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, আলোচনায় নির্বাচন প্রস্তুতি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, গণভোট এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, ইভারস আইজাবস জানিয়েছেন-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছে। এ কারণেই তারা একটি বড় ও বিস্তৃত নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, ইইউ সব দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না; তবে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং বাংলাদেশকে তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।
শফিকুল আলম জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রায় সাড়ে ১৬ বছরের শাসনামলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। ইভারস আইজাবসের মতে, আগের তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ছিল না। তবে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে ইতিবাচক পরিবেশ ও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা দলীয় বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে গণভোট প্রসঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রেস সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক মিশন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে কাজ করবে। তারা শুধু বড় রাজনৈতিক দল নয়, বরং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গেও মতবিনিময় করবে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইইউ প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তাঁর ভাষায়, 'দেশজুড়ে এখন নির্বাচনের জোয়ার বইছে'।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এসব ক্যামেরা একটি কেন্দ্রীয় অ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত সরাসরি মনিটর করা যাবে। পাশাপাশি সব কেন্দ্রে সিসিটিভি থাকবে এবং দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী র‌্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়ার বিষয়ে সরকার আইনগত মতামত নিয়েছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব জানান, শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন-এ বিষয়ে কোনো আইনগত বাধা নেই। ফলে সরকার গণভোটে জনসচেতনতা ও প্রচার কার্যক্রম চালাবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। তাঁর মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের সমর্থকেরা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারে, তবে তা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, নারী ও তরুণদের মধ্যে ভোট নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। এতে করে আসন্ন নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোটার উপস্থিতির আশা করছে সরকার। ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও উপস্থিত ছিলেন।

কীওয়ার্ডস:ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক,ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন,বাংলাদেশ গণতন্ত্র