আমাকে চেনো না আমি সে-ই পাহাড়ি মেয়ে
যার কানে ছিল বুনো ফুলের দুল,গলায় ঝুমকো জবার হার।
ঠোঁটের কোণে ঝর্ণার কলকলানো হাসি,
ছলাৎছলাৎ শব্দে নদী যার পা ধুইয়ে দিত।
আমি সেই মেয়ে গো যার কোন পিতৃ পরিচয় ছিল না
কিন্তু মায়ের প্রতি ছিল অগাধ শ্রদ্ধা কারণ --
মা অঙ্কুরে বিনাশ না করে সুন্দর পৃথিবীর মুখ দেখিয়েছিলেন।
যদিও তিনি জন্ম দিয়েই আপন দায়িত্ব শেষ করেছিলেন চিরবিদায় জানিয়ে।
পাহাড়িই আমাকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখিয়েছে প্রতিকুল পরিবেশে।
কানে দিয়েছে উদারতার মন্ত্র, লতাপাতার আবরণে ঢেকে রেখেছি লজ্জা।
বনের ফলে খেয়ে করেছি ক্ষুধা নিবারণ,বন্য পশুরাই ছিল খেলার সাথি।
মাথার উপর ছিল গুল্মলতার ছাউনি, চোখে দেখিনি সভ্যতার আলো।
অথচ সভ্য জাতিই হিংস্র জানোয়ারের মতো আমার দেহটা
ছিন্নভিন্ন করে দিল রাতের অন্ধকারে।
তাইতো আমি এখন নিশিকন্যা-- রাতের আঁধারে দেখে
বেড়ায় সভ্যতার বিধ্বস্ত রূপ মানবতার মুখোশে।