দীর্ঘ নির্বাসন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের দেড় যুগ পেরিয়ে অবশেষে দেশের মাটিতে ফিরলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-১০২ এ তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ জিপে তিনি রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপির আয়োজিত গণঅভ্যর্থনা মঞ্চের দিকে রওনা হন।
দলীয় সূত্র জানায়, বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় নির্মিত মঞ্চে তারেক রহমান অল্প সময়ের জন্য দেশবাসীর উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। এরপর তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাশে কিছু সময় কাটাবেন। সেখান থেকে গুলশানের বাসভবনে উঠবেন তিনি।
এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তারেক রহমান।
আগামী শুক্রবার বাদ জুমা তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার ও সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন। শনিবার নির্বাচন কমিশনে এনআইডি সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ, আবেগ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা একে শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন বাস্তবতার সূচনাবিন্দু হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহু মামলা, কারাবরণ, শারীরিক নির্যাতন, পারিবারিক শোক ও নির্বাসনের কঠিন সময় পেরিয়েও তারেক রহমান দূর থেকে দলকে সংগঠিত রেখেছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন আন্দোলন ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে। ফলে তার প্রত্যাবর্তন বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।
দেড় যুগ আগে চিকিৎসার অজুহাতে দেশ ছাড়লেও আজ তিনি ফিরছেন ভিন্ন এক বাস্তবতায়- গণমানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের নতুন পরিচয় নিয়ে। তার এই ফেরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
কীওয়ার্ডসঃতারেক রহমান,স্বদেশ প্রত্যাবর্তন,বিএনপি