আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কোনো মূল্যে নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডসহ সব ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশনা দেন তিনি।
রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ছাড়াও পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে প্রত্যাবর্তন, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষভাবে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অগ্রগতি ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি দুইটি জাতীয় দৈনিক ও দুইটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. কাশেম ফারুকি, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, মো. সোহেল রানা ও মো. শফিকুল ইসলাম। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি শনাক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের আশপাশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার ঘটনায় ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও বৈঠকে অবহিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে এসব ঘটনায় দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
কীওয়ার্ডসঃআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি,ওসমান হাদি হত্যা,নির্বাচন নিরাপত্তা