চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিভিষন সীমান্তে দুই দফায় নারী,শিশুসহ ১৫ বাংলাদেশীকে পুশইন করেছেবিএসএফ। বিজিবি ও পুলিশ জানায়, রোববার(১৪ ডিসেম্বর) সকালে মেইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২১৯/৭১ আর থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে লালমাটি নামক স্থান থেকে ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ইটাঘাটা ক্যাম্প কর্তৃক পুশইনের শিকার ১৫ জনকে আটকের পর গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি। এ নিয়ে গত প্রায় ৬ মাসে গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে একবার সহ জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৬ দফায় ৯২ বাংলাদেশীকে পুশইন করল বিএসএফ। এদিকে পুশইনের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। সংশ্লিস্ট নওগাঁ ব্যাটালিয়নের(১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে.কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন,দুপুর ১২টার দিকে সীমান্তে দুই বাহিনীর কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে লিখিতভাবে ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, প্রথম দফায় ৮ জন ও পরের দফায় ৭ জনকে পুশইন করে বিএসএফ। বির্ভিষন বিওপির টহল দল তাঁদের আটক করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশে হস্তান্তর করে। বিজিবি হস্তান্তর করার পর উপজেলা পরিষদ ডাবাংলোতে তাঁদের রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশী হিসেবে শনাক্ত ১৫ জনের মধ্যে ৩ শিশু,৮ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ রয়েছেন। তাঁদের পরিচয় যাচাইে পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে তাঁদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে উর্ধতণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে জানা গেছে, পুশইনকৃতরা বিভিন্ন সীমান্ত দিয়েঅবৈধভাবে বিগত ৩ বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন এলাকায় কাজের সন্ধানে ভারত যান। তাঁরা বাসাবাড়িতে বুয়ার কাজ সহ ছোটখাট কাজ করতেন। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। এর পর একেকজন বিভিন্ন মেয়াদে কয়েক মাস পর্যন্ত কারাভোগের পর তাঁদের বিএসএফ’র মাধ্যমে পুশইন করা হয়।
পুশইনের শিকাররা হলেন খুলনার ডুমুরিয়া থানার কুলোটিয়া গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে মো.নজরুল(৪৭), তাঁর স্ত্রী সালমা বেগম(৪০), খুলনার তেরখাদিয়া থানার কেটলা গ্রামের মো.নাজমুলের মেয়ে বিথি খাতুন(৯), যশোরের অভয়নগর থানার হিদিয়া ইছামতি গ্রামের শামীম সরদারের মেয়ে মোসা. রুনা(৩৬), একই গ্রামের মতি শিকদারের মেয়ে সুফিয়া বেগম(৪০), একই থানার সিদ্দিবাসী নাওলি গ্রামের মৃত মোদাচ্ছের ফকিরের মেয়ে মোসা. পারভিন(৪৮),যশোরের ঝিকরগাছা থানার বাকড়া গ্রামের মৃত ইয়ামুদ্দিনের ছেলে আব্দুল খালেক(৫৫),একই গ্রামের মনিরুল শেখের মেয়ে রিয়া মনি(১২), যশোরের শার্শা থানার বারন্দিপাড়া গ্রামের মনিরুল শেখের মেয়ে মোসা. নাসিমা(৩৮), যশোরের বেনাপোল থানার বাহাদুরপুর শাখারীপোতা গ্রামের শহিদ ব্যাপারীর মেয়ে ফরিদা বেগম(৪০), নড়াইলের কালিয়া থানার রাজাপুর গ্রামের মৃত বকসি মোল্লার মেয়ে জরিনা বেগম(৩০), ইমরান হোসেনের ছেলে মো.রকিব(৯), ঢাকার মিরপুর শাহ আলী থানার নিউ সি বøক ৭ এর আমজাদ পালোয়ানের মেয়ে ফাতেমা আক্তার(৩১), মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার চান্দহর মাদবপুর গ্রামের আখের ফকিরের ছেলে আলমাস আহমেদ(৩৬) এবং সাতক্ষীরার কলরোয়া থানার সোনাবাড়ি হলুলিয়া গ্রামের জিহাদ সরকারের ছেলে ওহিদ সরকার(২৬)।