দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতীয় লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত বিএনপি-তারেক রহমান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ২০২৫-১২-০৯ ১১:১৮:২২
image

দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রামে জনগণ দায়িত্ব দিলে আবারও নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত বিএনপি-এ কথা জানিয়ে দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসে মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা, অতীতের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি এখন আর পরিসংখ্যান বা রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়; এটি মানুষের প্রতিদিনের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। চাকরি খুঁজতে যাওয়া গ্র্যাজুয়েট থেকে সাধারণ কৃষকের সরকারি সেবা পাওয়া, হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা, কিংবা ব্যবসা টিকিয়ে রাখার লড়াই-সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি মানুষকে দমবন্ধ পরিস্থিতিতে ঠেলে দিচ্ছে। খাবারের দাম বৃদ্ধি, শিক্ষার মানহ্রাস, নিরাপত্তাহীনতা-সবকিছুর মূলে রয়েছে এই দুর্নীতি।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে অতীতে বাংলাদেশে যেসব সময়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছিল-তা মূলত এসেছিল বিএনপির শাসনামলে। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সরকারি সেবা সহজীকরণ এবং অর্থনীতিকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেন। যা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বেগম খালেদা জিয়ার সময় শুরু হয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন। কঠোর আর্থিক আইন, নতুন ক্রয় নীতিমালা, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা এবং নজরদারি পদ্ধতি দুর্নীতি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ২০০৪ সালে স্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী কমিশন (দুদক) গঠনকে তিনি দেশের জবাবদিহি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রশংসা এবং টিআইবির জরিপে দুর্নীতি কমার প্রমাণও তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির শাসনামলে কয়েকটি বড় পরিবর্তন দেশকে এগিয়ে নিয়েছিল-
• বাজেট নিয়ন্ত্রণ, অডিট ও ব্যাংকিং সংস্কারের মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থব্যবস্থা
• স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক সরকারি ক্রয় পদ্ধতি
• টেলিযোগাযোগ, মিডিয়া ও বিমান পরিবহন খাতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা
• প্রশাসনে বিকেন্দ্রীকরণ ও সহজীকরণ
তার দাবি, দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্যের রেকর্ড একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় তিনি উল্লেখ করেন-
• আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত রাখা
• সম্পদ বিবরণী, উন্মুক্ত দরপত্র ও রিয়েল-টাইম অডিটসহ পূর্ণ স্বচ্ছতা
• পেশাদার পুলিশিং, দ্রুত বিচার ও ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবস্থার উন্নতি
• ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সেবা অনলাইনে এনে ঘুষের সুযোগ কমানো
• হুইসলব্লোয়ারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা
• শিক্ষায় সততা ও নৈতিকতা অন্তর্ভুক্ত করা
• জাতীয় ব্যয় ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা
তিনি বলেন, বহু বছরের অব্যবস্থাপনা দূর করা সহজ নয়, তবে সৎ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জনগণের সমর্থন একসাথে এলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।
তারেক রহমান পোস্টের শেষে লিখেছেন,“জনগণ দায়িত্ব দিলে বিএনপি আবারও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।”