সিগারেট খাচ্ছিস কেন?
এমনি।
এমনি কেন?
মহিম ধোয়া টানতে গিয়ে একবার অদিতির দিকে তাকালো।
মেয়েটা আগের চেয়ে সুশ্রী হয়ে গেছে। মুখের রঙ ফর্সা লাগছে বেশী। কিছু মাখে বোধহয়। মহিম ভালো।করে লক্ষ্য করল। নাহ তেমন কিছু মনে হচ্ছে না। অদিতি ফোস করে উঠে।
কিছু বললে বাকা তেরা উত্তর করিস, কারন কি?
কই।
আবারও?
তুমি কিছু বলবে?
মহিম কথা খাটো করল।
অদিতি রাগ করলে তুই তুই করে কথা বলে। আজও বলছে। তবে সে বিশেষ কিছু বলতে এসেছে মনে হলো। কিন্ত কি বলবে। নিশ্চয় ভালো কিছু না।
তার আন্দাজ হয়ে গেছে। কারন ভাগ্যটা এমনই তার । কোনকিছু সহজ করে পাওয়া হয় না। সব হাত ফসকে ছুটে যায়।
মাস্টার্সের ফাস্ট ক্লাস হয়নি। পেলো রকিব। রকিবের মত মাঝারী মানের ছাত্র টপে চলে।গেলো চোখের সামনে।
এরপর সেকেন্ড ক্লাস নিয়ে তমা গ্রুপে জুনিয়র এক্সকিউটিভ এর চাকরীটা কনফার্ম হয়েও হলো না।
মহিম সিগারেট খেলো না। ইচ্ছেটা মরে গেছে। সে আধখাওয়া টুকরা ফেলে দিয়ে অদিতির মুখোমুখি বসল।
মেয়েটা আজ শাড়ি পরেছে। বাদামী রঙা। হালকা রঙে খুব উজ্জল লাগে কাউকে।
অদিতিকেও লাগছে।
নাকে ছোট একটা নাকফুল। সস্তা পাথরের।
সাদা পাথর অদিতির পছন্দ নয়। কিন্ত মহিমের ভালো লাগে।
কেমন শুভ্রময় একটা বিষয়। দেখলেই শান্তি শান্তি লাগে।
এই নাকফুলটি এক মাস তিনদিন আগে মহিম কিনে দিয়েছে অদিতিকে। বিশেষ একটা ঘটনা ঘটিয়ে। সেই ঘটনার কথা মনে হলে মহিমের গায়ে কাটা দেয়। নাকফুল খুব সেনসিটিভ ইস্যু।
চাইলেই যাকে তাকে কাউকে দেয়া যায় না।
অদিতি খুব কম কথা বলছে। ইচ্ছে করেই কিনা। অভিমান নিয়ে মুখ খুলল অনেকটা সময় পর।
আমার বিয়ে নিয়ে কথা চলছে।
ওহ।
মনে হয় এটাই ফাইনাল হয়ে যাবে।
তোমার মতামত ছাড়াই?
অদিতির মুখে শেষ বিকেলের রোদ। অদ্ভুত সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে। মহিমের কেমন খাপছাড়া লাগে। এত সুন্দর একটা মেয়ে। তার পাশে বোধহয় বেমানান।
তারপরও অদিতি তাকে আকড়ে আছে। প্রেম ভালবাসার বিশেষত্ব আলাদাই। অদৃশ্য এক চুম্বকীয় আকর্ষন আছে এতে । যতবার অদিতিকে দেখে ততবার এই কথাটাই তার মনে হয়।
এটুকু ভাবতেই মহিমের কেমন অস্থিরতা পেয়ে বসে। সে উঠে পড়ল। শেষ বিকেলের আলো কমছে ধীরে ধীরে।
চন্দ্রিমা উদ্যানে রাত হলে বসে থাকবে এমন অবস্থা নাই।
উটকো ঝামেলা পিছু নিবে। পুলিশ আসবে। ভাসমান লোকেরা আনাগোনা করবে। টাকাপয়সার সাথে মান সন্মান ধুলোয় মিশেও যেতে পারে। মহিম উঠে পড়ল।
অদিতি নড়ছে না। এক ঠায় বসা। মহিম তাড়া দেয়।
উঠো?
না।
মানে কি?
অদিতির মুখে জ্বলজ্বল ঘৃণা। আধো আলোতে মহিম দেখতে পাচ্ছে।
এতই সহজ সব ভুলে যাওয়া?
তুমি এত রিএ্যক্ট করছো কেন অদিতি, টেক ইট ইজি।
যদি বিয়ে হয়ে যায় তখন?
বিয়েটা পুরোপুরি ভাগ্য। তুমি চাইলেও হবে। না চাইলেও।
তার মানে কি বলতে চাইছো?
মহিম কিছুই বলল না। সন্ধ্যা নেমে আসছে।
তাহলে নাকফুলটি কি করব, ফেলে দিবো?
তোমার ইচ্ছা।
অদিতির চোখ টলমল করছে।
ঘন আঁধার নামল আকাশ জুড়ে। অদিতি তবুও উঠল না।