কিংবদন্তি গণসংগীতকার সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উদযাপনে উদীচীর আয়োজন 'সতত সলিল' অনুষ্ঠিত

  • মঞ্জুর মোর্শেদ মিল্টন
  • ২০২৫-১১-১৯ ২২:০৯:১২
image

আজ ১৯ নভেম্বর, বুধবার, বিকাল ৪টায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কিংবদন্তি গণসংগীতকার সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উদীচীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “সতত সলিল” শীর্ষক অনুষ্ঠানমালা।
আলোচনা, গান, কবিতা ও নৃত্য সহযোগে অনুষ্ঠিত হয় উদীচীর অনুষ্ঠানমালা। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম-এর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন - লেখক, গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সায়েম রানা; উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, জামসেদ আনোয়ার তপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান।
সলিল চৌধুরী সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে আলোচকগণ বলেন, এই জাতির যে ঐতিহাসিক ধারাক্রম রয়েছে সেই ধারার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের একজন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তি ছিলেন সলিল চৌধুরী। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলার মানুষের প্রতিটি লড়াই সংগ্রামে গণসংগীত মানুষের রক্তে আগুন জ্বেলেছে, মানুষকে উজ্জীবিত করেছে, মানুষকে তার মুক্তির পথ দেখিয়েছে। সলিল চৌধুরী ছিলেন সেই গণসংগীতের একজন কিংবদন্তি কারিগর। তাঁর হাত ধরে গণসংগীত পেয়েছে এক নতুন মাত্রা। তিনি কবিতাকে, মিছিলের স্লোগানকে যেমন গানে রূপান্তর করেছেন তেমনি তাঁর রচিত সংগীত হয়ে উঠেছে মিছিলের স্লোগান। তারা আরো বলেন, গণমানুষের মুক্তির বাণী নিয়ে যে গান তা আমাদের প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শাসক শ্রেণি থেকে শুরু করে অনেকেরই পছন্দের নয়। তাই হয় তো আমাদের সমাজে গণসংগীত এখনো স্বতন্ত্র একটি ধারা হিসেবে স্বীকৃতি পায় নি। কিন্তু তারপরেও মানবমুক্তির প্রতিটি লড়াইয়ে, প্রতিটি সংগ্রামে গণসংগীত আমাদের শক্তি যোগায়, সাহস যোগায়। বাংলা আধুনিক গানের অবিস্মরণীয় সুরস্রষ্টা ও গণসংগীতের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তি সলিল চৌধুরীর তৈরি করা গণসংগীত সর্বকালের জন্য প্রাসঙ্গিক।
আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, এতে বৃন্দ গান পরিবেশন করে- উদীচী সংগীত বিভাগ ও গানের দল ‘কোরাস’। একক গান পরিবেশন করেন- তানভীর আলম সজীব ও মনসুর আহমেদ।
বৃন্দ নৃত্য পরিবেশন করবে- স্পন্দন। একক নৃত্য পরিবেশন করেন- আদৃতা আনোয়ার প্রকৃতি।
বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে- উদীচী আবৃত্তি বিভাগ। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন- শাহেদ নেওয়াজ।