জাপানের উত্তর উপকূলে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইওয়াতে প্রদেশ। স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় সংঘটিত এই ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় হালকা সুনামি দেখা দেয়। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে মিয়াকো উপকূলে প্রথম সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। যদিও ঢেউয়ের উচ্চতা খুবই কম থাকায় তা পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। দুই মিনিট পর ওফুনাতো উপকূলে প্রায় ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ পৌঁছে যায়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। মূল ভূমিকম্পের পর ৫ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার একাধিক পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সতর্কতা হিসেবে এক মিটার পর্যন্ত সুনামির আশঙ্কা জারি করেছিল জেএমএ।
এদিকে, একই দিনে ফিলিপাইনে ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার বেগে ছুটে আসছে ভয়াবহ ‘সুপার টাইফুন ফাং-ওং’। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ৯ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ঝড়টি রোববার সন্ধ্যার দিকে উত্তরাঞ্চলে স্থলভাগে আঘাত হানবে। এর প্রভাবে ৩ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস এবং ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
ফাং-ওং স্থানীয়ভাবে ‘উওয়ান’ নামে পরিচিত। এটি কয়েক দিন আগেই ফিলিপাইনে তাণ্ডব চালানো টাইফুন ‘কালমেগি’র পরবর্তী আরেক শক্তিশালী ঝড়। কালমেগির আঘাতে ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। নতুন এই ঝড়ের কারণে স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, বাতিল হয়েছে অন্তত ৩০০ ফ্লাইট।
ফিলিপাইন সরকার ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে, যাতে ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ফাং-ওং স্থলভাগে আঘাতের পর কিছুটা দুর্বল হলেও লুজন দ্বীপ অতিক্রমের সময়ও এটি শক্তিশালী টাইফুন হিসেবেই থাকবে।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ফিলিপাইন একই দিনে প্রকৃতির দুই ভিন্ন তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
কীওয়ার্ডস:
ভূমিকম্প, সুনামি, সুপার টাইফুন