বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ: সময়ই বাঁচাতে পারে জীবন

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৫-১০-২৯ ০৯:৩০:৩৫
image

আজ ২৯ অক্টোবর, বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় দিবসটি, যার উদ্দেশ্য—স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করে প্রাণ বাঁচানো। এ বছরের প্রতিপাদ্য,প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ, যা সময়ের গুরুত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের এক ধরনের জটিল রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে ওই স্থানের কোষ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অচল হয়ে পড়তে পারে। এটি হার্ট অ্যাটাক নয়, বরং মস্তিষ্কের অ্যাটাক-যেখানে প্রতিটি মিনিটে কোষ মারা যায়, তাই তাৎক্ষণিক চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।
২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থা (World Stroke Organization-WSO) গঠনের মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হয়। সংস্থাটির মূল লক্ষ্য হলো স্ট্রোকের ঝুঁকি, লক্ষণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ স্ট্রোক। দেশে মৃত্যুর প্রায় ১৮.৭৪ শতাংশই এই রোগের কারণে ঘটে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৩ সালের তথ্যানুযায়ী, প্রতি এক লাখে ৫৫ জন স্ট্রোকে মারা যান, আর প্রতি এক হাজারে প্রায় ১১ জন আক্রান্ত হন।
চিকিৎসকরা বলছেন, স্ট্রোকের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে-রক্ত জমাট বেঁধে হওয়া (ইস্কেমিক স্ট্রোক) এবং মস্তিষ্কে রক্তপাতজনিত (হেমোরেজিক স্ট্রোক)। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, ধূমপান ও স্থূলতা স্ট্রোকের বড় ঝুঁকির কারণ। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এখন কম বয়সীদের মধ্যেও এসব রোগের প্রবণতা বাড়ছে, ফলে তরুণরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এ বছর দিবসটির মূল বার্তা হলো-সময়ই জীবন। প্রতি মিনিটে দেরি মানে মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস। তাই স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ-হঠাৎ হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়ানো বা মুখ বেঁকে যাওয়া দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। নিয়মিত ব্যায়াম, রক্তচাপ ও রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ, পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাদ্যগ্রহণ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি, জনসচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি-কারণ স্ট্রোক কেবল বয়স্কদের নয়, যে কারও হতে পারে।
বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থা জানিয়েছে, প্রতিরোধযোগ্য রোগগুলোর মধ্যে স্ট্রোক অন্যতম। দ্রুত সাড়া, সময়মতো চিকিৎসা ও সচেতনতা অনেক জীবন বাঁচাতে পারে। তাই আজকের এই দিনে মূল বার্তাটি স্পষ্ট-“সময় হারাবেন না,পদক্ষেপ নিন।”

কীওয়ার্ডস: স্ট্রোক দিবস ২০২৫,বাংলাদেশে স্ট্রোক সচেতনতা,বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থা