পঞ্চগড়ের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া তরুণ রিকশাচালক আল আমিনের পরিবারের পাশে দাঁড়াল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার রাতে সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামে গিয়ে এনসিপি বোদা উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী শিশির আসাদ তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার ও চার বছরের কন্যা আশা মনির হাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, পরিবারটিকে কর্মমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এ সময় স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা পরিবারকে আশ্বাস দেন ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার।
নিখোঁজ আল আমিনের বয়স ছিল মাত্র একুশ বছর। পঞ্চগড় পৌরসভার দর্জিপাড়া এলাকার এই তরুণ জীবিকার প্রয়োজনে রিকশা চালাতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। সেদিন রাতভর খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না মেলায় ১৪ আগস্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর তেরো মাস কেটে গেলেও তাঁর খোঁজ মেলেনি।
স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর সুমি আক্তার ছোট মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। শ্বশুর-শাশুড়িও দিনমজুরির কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন এবং মেয়ের পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। অভাব-অনটনে দিন কাটানো এই পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
এই প্রেক্ষাপটে শিশির আসাদের সহায়তা পরিবারটির জন্য এক সাময়িক স্বস্তি বয়ে এনেছে। রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এ ধরনের উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আল আমিনের মতো নিখোঁজ তরুণদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো কেবল একটি সামাজিক দায়বদ্ধতাই নয়, গণআন্দোলনের চেতনাকেও টিকিয়ে রাখবে—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।