নুরুল হক নুরের উপর হামলা ভারতীয় আধিপত্যবাদের দুরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত : বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন

  • মোঃ মাসুদ হোসেন
  • ২০২৫-০৮-৩১ ১৯:৩৪:০৬
image

জাতীয় ঐক্য জোটের উদ্যোগে জোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয় আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ জাতীয় ঐক্য  জোটের উদ্যোগে সেগুনবাগিচা রিপোর্টার্স ইউনিটির নিচ তলার হলরুমে জাতীয় সংলাপ উদযাপনের প্রস্তুতি উপলক্ষে জোটের অর্গানাইজিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় বাংলাদেশ ইসলামী জনকল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান ও জোটের প্রধান সমন্বয়কারী আলহাজ্ব মাওলানা আলতাফ হোসাইন মোল্লার সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ মুসলিম সমাজের চেয়ারম্যান জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ মাসুদ হোসেনের পরিচালনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সহচর জাতীয় পার্টি মন্ত্রী-এমপিসহ অবৈধ সরকারে থেকে নানান ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে। জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি বেইমানি করা এই জাতীয় পার্টির কারণে শেখ হাসিনা বারবার অবৈধ নির্বাচন করতে পেরেছে। ৫ই আগস্টের পর ১৪ দলের সাথে সম্পর্কিত দুই-একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের জেলে যেতে হলেও জাতীয় পার্টির যারা অবৈধ মন্ত্রী-এমপি হয়েছিল এদের এখনো আদালতের কাঠগড়ায় যেতে হয়নি। কোন অদৃশ্য শক্তির বলে এরা পার পেয়ে যাচ্ছে জনগণ তা জানতে চায়। গণঅধিকার পরিষদ যখন জাতীয় পার্টির নিষিদ্ধ ও এই অবৈধ মন্ত্রী এমপিদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করল তখন গণঅধিকার পরিষদের  সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের উপর হিংস্র হায়নার মত অতর্কিত হামলা করা হলো। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছে, তার অবস্থা আশঙ্কা জনক। এই হামলা ভারতীয় আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসরদের দুরভিসন্ধি ও চক্রান্তের অংশ। তারা চাচ্ছে সেনাবাহিনীর সাথে ছাত্র-জনতার বিরোধ সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মত সামরিক শাসন জারি করার মাধ্যমে পুনরায় তাদের দোসর আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে ফিরিয়ে আনবে এটা হল তাদের প্লান। এ বিষয়ে ছাত্র-জনতাকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এই প্লান  যদি ব্যর্থ হয় তাহলে তারা তাদের প্লান বি সেটা কার্যকর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আর তা হল মাঠের দৃশ্যমান নির্বাচন প্রফেসর ইউনূসকে দিয়ে একটি সাজানো গোছানো পরিকল্পনামাফিক পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে আপাতত ক্ষমতা দিয়ে ও ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টি কে বিরোধী দল বানিয়ে এক থেকে দুই বছর ক্ষমতা রেখে পুনরায় আবার তাদের দোসর আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে প্রতিষ্ঠিত করা। এ জন্য তারা দেশব্যাপী তাদের এজেন্টদের দিয়ে দেশকে অস্থিতিরশীল করার জন্য নানান চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দেশব্যাপী চাঁদাবাজি, গুম, খুন, নির্যাতন, অন্যের জমি দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর একটাই কারণ ড. ইউনূস সরকারকে ব্যর্থ করার মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা।
নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে জাতীয় পার্টির নিষিদ্ধ ও গণধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের উপর হামলার নিন্দা প্রতিবাদ জ্ঞাপন করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানান। সবার শেষে গণধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দের দ্রুত সুস্থতা কামনায় মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ঐক্য জোটের সমন্বয়ক ইসলামী বুদ্ধিজীবী ফ্রন্ট এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আব্দুল হান্নান আল হাদী, দেশ প্রেমিক নাগরিক পার্টি চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ শামীম, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টি চেয়ারম্যান প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ জনতা পার্টির চেয়ারম্যান এ এম আনোয়ার শাহ, ইঞ্জিনিয়ার বেলাল, বাংলাদেশ ইসলামী পার্টির মহাসচিব হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ইসলামী জনকল্যাণ পার্টির মহাসচিব আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী সমাজতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ দেশপ্রেমিক প্রজন্ম আহ্বায়ক কাউসার মিয়াজী, জাতীয় ঐক্য দলের আহ্বায়ক নাজমুল হক সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।