মহেশখালীতে চিংড়ি ঘের থেকে রাতে অপহরণ,সকালে ব্যবসায়ী তোফায়েলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের
  • ২০২৫-০৮-২৪ ১৪:৫১:৪৪
image

মহেশখালী কক্সবাজার ২৪ শে আগস্ট ২০২৫
মহেশখালীর ক্রাইমজোন হিসেবে পরিচিত কালারমারছড়া'র ১ টি চিংড়ি প্রজেক্ট থেকে রাতে অপহরণ করে তুলে নিয়ে তোফায়েল আহমেদ (৩০) নামে এক  যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (২৪ শে আগস্ট) ভোরে কালারমারছড়া কাউল্যার ব্রিজ সংলগ্ন বাঁশঝাড়ে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। 
পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে তোফায়েলকে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত তোফায়েল মহেশখালী উপজেলা  কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনার খউস্বরো গোষ্ঠীর সন্তান মরহুম ছিদ্দিক মাতাব্বরের পুত্র এবং ছাত্রজনতার আন্দোলনে শহীদ তানভীর ছিদ্দিকের নিকটাত্মীয় (চাচাতো চাচা)।পেশায় স্থানীয় চিংড়ি ঘের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।
জানা যায়-রোববার (২৪ আগস্ট) ভোরে উপজেলার কালারমার ছড়া অফিসপাড়া সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। 
এর আগে শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কালারমার ছড়ার পশ্চিমাঞ্চল ‘আটজইন্যা ও পনেরজইন্যা ঘোনা’ এলাকায় প্রায় ২০-৩০ জন সন্ত্রাসী ও ডাকাত হানা দেয়। তারা ঘেরের কর্মচারীদের মারধর করে প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ ও মালামাল লুট করে নেয় এবং অস্ত্রের মুখে তোফায়েলকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় মুহুর্মুহু গুলি চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
খবর পেয়ে পরিবার প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করলে কোস্ট গার্ড ও পুলিশ পাহাড়ে অভিযান চালায়। তবে তাকে জীবিত উদ্ধার সম্ভব হয়নি। ভোরে প্রধান সড়কের পাশে পিটিয়ে থেতলানো ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।
পরে চকরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই সরওয়ার আজম ছিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আমার ভাইকে ঘের থেকে ধরে পাহাড়ে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। পরে তার লাশ সড়কে ফেলে যায়। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুখ্যাত কালাবদার নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী গ্যাং এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
কালারমার ছড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও চিংড়িঘের দখল নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার পর আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুর হক বলেন- পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে তারা। নিহত তোফায়েলকে হত্যার ঘটনায় একাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’