হাতে নেই চুড়ির গাছা
শাড়ির রং আবছা আবছা।
কপালে দুই চোখের মাঝে
গভীর রাত্রি নামে সাঁঝে।
হাত বাড়ালে যায় না ছোঁয়া
গা ঘিনঘিন গন্ধ পাওয়া।
সারাটা দিন দু হাত দিয়ে
কর্ম করে বুক চিতিয়ে।
বুকের আঁচল খসে পড়ে
দৃষ্টি আটকায় কালো কারে।
মুক্তোর বদলে এটাই জোটে
এসব লেখা তার ললাটে।
পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখো
শক্ত হাড়ের খেয়াল রেখো।
মাংসপিণ্ড নেই ওখানে
সব গিয়েছে ক্ষুধার টানে।
এদিক ওদিক ছুটছে তারা
দিনরাত্তির অঝোর ধারা।
সব সময় চোখে অসুর দেখে
ভয় দিয়ে খায় ভাত মেখে।
দিনের বেলা কাজের বাড়ি
বাবুর থাকে নজরদারি।
রাতের বেলায় মাতাল বর
তার বিছানায় তোলে ঝড়।
আষ্টেপৃষ্ঠে গেলে দেহ
বিরাম নিতে দেয় না কেহ।
লাগাম ছাড়া আঘাত তাতে
জ্বালা ধরায় গোপন ক্ষতে।
ভাবছো তোমরা কেমন মেয়ে?
তাকিয়ে দেখো কাজের ঝি'য়ে।
সবার ঘরে আছে এমন
রূপ বদলায় যখন যেমন।
টিনের চালের গর্ভধারিনী
অট্টালিকায় সে সেবাদায়িনী।
ভাগ্য তাদের এমনই চালায়
সারা জীবন পেটের জ্বালায়।