হামাসের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে ইসরাইলের শর্তযুক্ত অবস্থান

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৮-২০ ১০:০০:৪০
image

হামাসের প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় উদ্যোগকে ইসরাইল গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। 
তবে দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে কেবল তখনই, যখন গাজায় আটক থাকা ৫০ জন জিম্মির সবাই (এর মধ্যে ২০ জন জীবিত) মুক্তি পাবে।
হামাসের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১০ জন জীবিত ও ১৮ জন মৃত জিম্মির বিনিময়ে ২০০ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি দেওয়া হবে, 
যাদের মধ্যে নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কও থাকবে। পাশাপাশি গাজায় মানবিক দিক বিবেচনায় আংশিক সেনা প্রত্যাহার ও ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এটি মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে আলোচনার অংশ হিসেবে এসেছে। 
হামাস জানিয়েছে, এই প্রস্তাব ভবিষ্যতে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ গাজা সিটি দখলের চার ধাপের পরিকল্পনা সেনা কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন—
১) দক্ষিণ গাজায় মানবিক অবকাঠামো গড়ে তোলা,
২) গাজা সিটি থেকে জনগণ সরিয়ে নেওয়া,
৩) শহর ঘিরে ফেলা,
৪) স্থল অভিযান শুরু।
এরই মধ্যে নতুন হামলার আশঙ্কায় হাজারো ফিলিস্তিনি পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে পালিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে।
এদিকে ইসরাইলের ভেতরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছে। 
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জোটসঙ্গীদের চাপে রয়েছেন, যারা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ও গাজা দখলের পক্ষে।
অন্যদিকে, হামাস ইসরাইলের মূল শর্ত—অস্ত্র সমর্পণ ও নেতৃত্ব গাজা ত্যাগ—এখনো প্রত্যাখ্যান করেছে। 
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অব্যাহত ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর ফলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে উপত্যকার অধিকাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

কীওয়ার্ডস:
হামাস যুদ্ধবিরতি, ইসরাইল গাজা যুদ্ধ, জিম্মি বিনিময়, ফিলিস্তিনি সংকট, গাজা মানবিক বিপর্যয়