শাহবাগে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বস্তিবাসীদের অবস্থান কর্মসূচীতে পুলিশের বাধা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৮-১৮ ২১:০৭:৫৮
image

দুটি দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বস্তিবাসীরা। তাদের দাবি দুটি হলো- ‘রাজধানীর বিজয় স্মরণীস্থ কলমিলতা বাজারের ক্ষতিপূরণ দাবি ও মিরপুর ভাষানটেক বস্তি পুনর্বাসন প্রকল্পটি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি।’ এর আগে গত বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে কাফনের কাপড় পরে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচী পালন করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বস্তিবাসীরা। এরও আগে, গত ১১ আগস্ট সচিবালয়ের গেইটে প্রতীকী অনশন করতে গেলে তাদের বাঁধা দেয় পুলিশ। আজ সোমবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচী করতে গেলেও পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান আলহাজ মো. আব্দুর রহিম বলেন, আমরা দুটি দাবিতে টানা ১০দিনযাবৎ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু সরকার সমাধান করছে না। এতে পরিস্থিতি ঘোলাটে হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। অবিলম্বে আমাদের দাবি না মেনে নিলে  আগামী ২৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে কলমিলতা বাজার অভিমুখে যাত্রা ও ২৮ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পুলিশের বাধার মুখে আব্দুর রহিম বলেন, বিগত সরকারের কাছে বারবার দাবি দুটির সমাধান চেয়েও সমাধান পাইনি। অতঃপর গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর এ বিষয়ে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমিমন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ পুলিশের আইজিপি বরাবরে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ভূমি মন্ত্রণালয় ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনও করেন। প্রজ্ঞাপনে আগামী ৩ মাসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দেন। অদৃশ্য কারণে ৭ মাস অতিবাহিত হলেও এর কোনো অগ্রগতি নেই। প্রতিবেদনও দাখিল হয়নি, বস্তিবাসীদের ভাগ্যও পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গত ৯ আগস্ট শনিবার থেকে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত সোমবার সচিবালয়ের গেইটে প্রতীকী অনশন করতে গেলে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। আজ শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচীতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের আন্দোলনে বাধা দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। বরং এতে আমাদের আন্দোলন আরো বেগবান হবে। যত বাঁধাই দেয়া হোক না কেন, আমাদের আন্দোলন চলবেই। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথেই থাকবো, প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু রাজপথ থেকে পিছপা হব না।
এসময় তিনি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বস্তিবাসীরা টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু এখন পর্যন্ত সমাধান পাচ্ছি না। অবিলম্বে আমাদের দাবি দুটি মেনে না নিয়ে বস্তিবাসীসহ সচেতন দেশবাসী জেগে উঠবে। কাজেই অতিদ্রুত আমাদের দাবি দুটি মেনে নিন।  এসময় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নাতনি এডভোকেট নূরতাজ আরা ঐশীসহ শতশত বস্তিবাসীর উপস্থিত ছিলেন।