গত বছরের ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। সেই ঘটনার পর এবার আলোচনায় তাঁর ভাগনি ও ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক। যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির প্রভাবশালী এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে ঢাকায় জমি দখল ও দুর্নীতির অভিযোগ গঠন হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (১১ আগস্ট) এই মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা।
৪২ বছর বয়সী টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি ব্রিটেনের মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। নতুন অভিযোগ অনুসারে, তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় পূর্বাচলে পরিবারের নামে জমি অধিগ্রহণ করেছেন। তবে টিউলিপ এসব অভিযোগকে ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, আদালতে হাজির হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমন পাননি। তিনি বলেন, ‘আমাকে বিচার করা হচ্ছে, অথচ আমি অভিযোগের প্রকৃত কারণ জানি না।’
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, টিউলিপ হাজির না হলেও বিচার চলবে। দোষী সাব্যস্ত হলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রত্যর্পণ ইস্যু সামনে আসবে, যদিও ব্রিটেনে এ ধরনের চুক্তি নেই।
শেখ হাসিনার পতনের পর টিউলিপের বিরুদ্ধে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে বিপুল অর্থ তছরুপ এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত নানা অভিযোগ ওঠে। টিউলিপ এসব অভিযোগকে ‘নোংরা রাজনীতি’ বলে দাবি করে জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলো মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে।
লন্ডনে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি জব্দের খবরের প্রসঙ্গে টিউলিপ জানান, এসবের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি নিজেকে ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, ক্ষমতাধর মহলের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে।
টিউলিপ সিদ্দিক, শেখ হাসিনা, দুর্নীতি মামলা, বাংলাদেশ রাজনীতি, ব্রিটেন এমপি