বাঘ নিয়ে যতকথা

  • স্বপ্নময়ী দীনা
  • ২০২৩-০৮-২১ ২১:০০:৩৭
image

- বাঘের বাচ্চারা ৬ মাসে স্বাবলম্বী হয়। এর আগে তাদের দেখাশোনা পুরোটাই মা বাঘ করে। পুরুষ বাঘ (পিতা) কোন দায়িত্ব পালন করে না। উল্টো অনেক সময় নিজের বাচ্চাকেও খেয়ে ফেলে। "বিখ্যাত বাঘ শিকারি জিম করবেট বলেছেন, বাচ্চারা মায়ের সাথে ১৮ মাস পর্যন্ত থাকে।" যখন তারা নিজেরা চলাফেরা শিখে যায়, তখন তারা তাদের মাকে ছেড়ে চলে যায় এবং নিজেদের মতো করে একটা এলাকা বেছে নিয়ে বসবাস করা শুরু করে।
- বাঘ সাধারণত নিশাচর প্রাণী। পুরুষ বাঘ বাঘিনী এবং শাবকদের ছাড়াই নিঃসঙ্গভাবে চলাফেরা করে। তবে পুরুষ বাঘ শিকার ধরে স্ত্রী বাঘ এবং শাবকদের আগে খেতে দেয়।
- বাঘের কপালের নিদর্শনটি চীনা প্রতীকের সাথে হুবহু মিলে যায় যার অর্থ রাজা, এজন্য বাঘ চীনা সংস্কৃতিতে রাজকীয় মর্যাদা লাভ করেছে।
- বাঘের জিহ্বা ভর্তি পিছনের দিকে মুখ করা অনেক ধারালো প্যাপিলা থাকে। যেগুলো যেকোন শিকার থেকে লোম, চামড়া বা পালক ছাড়িয়ে খেতে সাহায্য করে। এগুলো এতটাই অমসৃণ হয় যে তারা খুব সহজেই যেকোনো হাড়ে লেগে থাকা মাংস চেটে তুলে আনতে পারে।
- বাঘের ডোরাকাটা দাগ শুধু তার লোমে না, চামড়ায়ও থাকে। মানুষের যেমন স্বতন্ত্র ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকে, সেরকম দুইটা বাঘের চামড়ার স্ট্রাইপের প্যাটার্ন কখনো এক হয় না। যার ফলে বাঘেরা খুব সহজেই একে অপরকে শনাক্ত করতে পারে।
- বিড়ালের মত প্যাডেড পা (নিঃশব্দে চলাফেরার জন্য), প্রায় ৩ ইঞ্চি লম্বা একেকটা ধারালো ক্যানাইন দাঁত, ১০ সে.মি. লম্বা নখর, সমস্ত ফেলাইনের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর থাবা ও দ্রুতগতি থাকা সত্ত্বেও বাঘের শিকার ধরার সফলতার রেট ১০%। অর্থাৎ প্রতি ১০ বারের চেষ্টায় বাঘ মাত্র ১ বার সফল হয়। তবে একটু বড় কিছু ১ বার শিকার করতে পারলে ৫-৬ দিন আর শিকার করে না।
- বাঘ একবারে মোটামুটি ৪০ কেজির মত মাংস খায়। এরা সাধারণত মহিষ, হরিন, বন্য শূকর, বানর, বড় পাখি, বড় মাছ শিকার করে থাকে। এরা ২-৩ সপ্তাহ না খেয়ে থাকলে মারা যায়।
- বাঘ অন্যান্য প্রাণীর ডাক নকল করে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বোকা বানিয়ে শিকার করে।
- সুন্দরবনের বাঘে মানুষও খায়। সাতক্ষীরার পচাব্দী গাজী এরকম ৫৬ টি (মতান্তরে ৫৭টি) মানুষখেকো বাঘ শিকার করে বিখ্যাত বাঘ শিকারি হয়েছিলেন।
- বাঘের গর্জন ৩ কি.মি. দূর থেকেও শোনা যায়। এরা দূরবর্তী বাঘদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভয়ঙ্কর শব্দে গর্জন করে। কাছ থেকে বাঘের গর্জন শুনলে বধির হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে।
- বাঘের প্রস্রাবের গন্ধ বাটার মাখানো পপকর্ণের মত। নিজেদের এলাকা চিহ্নিত করতে এবং অন্যদের সতর্ক করতে বাঘ প্রস্রাবের গন্ধ কাজে লাগায়। এছাড়া গাছে নখের আঁচড় রেখেও এলাকা চিহ্নিত করে।
- বিড়াল পরিবারের মধ্যে একমাত্র বাঘ-ই পানিকে ভালবাসে। এরা খুবই ভাল সাঁতারু, একটানা ৬ কি.মি. সাঁতারও কাটতে পারে। সাঁতরানোর সময় শিকার ধরতেও এরা বেশ পটু।
- বাঘ রাতে স্পষ্ট দেখতে পেলেও দিনের বেলা মানুষের তুলনায় চোখে কম দেখে। এরা অন্ধকারে মানুষের চেয়ে ৬ গুণ বেশি দেখতে পায়।
- বাঘের পা এতটা শক্তিশালী যে এরা মারা যাওয়ার পরও কিছু সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
- বাঘ সচারচর সামনে দিয়ে আক্রমণ করে না। এজন্য সুন্দরবনের জেলে, বাউয়ালি, মৌয়ালিরা বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য মাথার পেছনে মুখোশ পরে।
- বাঘের কানের পেছনের সাদা দাগটিকে ওসেলি বলে। কানের পিঠের এ সাদা দাগগুলি কখনও কখনও পিছন থেকে সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের বাধা দেওয়ার জন্য 'চোখ' হিসাবে কাজ করে বলে মনে করা হয়। আবার কখনো এ সাদা দাগগুলি বাঘের শাবকগুলি লম্বা ঘাসের মাধ্যমে তাদের মাকে অনুসরণ করতে সহায়তা করে।
- বাঘ ও সিংহীর সাথে প্রজননের ফলে ‘টাইগন' এবং সিংহ ও বাঘিনীর প্রজননের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির সংকর প্রাণী 'লাইগার' এর জন্ম হয়।

বাঘ সংরক্ষণে  সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২৯ জুলাইকে আন্তর্জাতিক "বাঘ  দিবস"  হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।২০১০ সালে রাশিয়ায় সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম বাঘ দিবস পালিত হয়।