যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে গেল: রাজনৈতিক ভুল,কৌশলগত ভুল বোঝাবুঝি ও তিক্ত সম্পর্কই দায়ী

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৮-০৬ ২৩:২২:০৯
image

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে পাঁচ দফা আলোচনার পরও বহুল প্রত্যাশিত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের মতে, রাজনৈতিক ভুল বিচার, কৌশলগত ভুল বোঝাবুঝি এবং দুই দেশের সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান তিক্ততা এই ব্যর্থতার মূল কারণ। প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার ফলে ভারতকে এখন ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং রুশ তেল আমদানির জন্য অতিরিক্ত জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভারত ১৫ শতাংশ শুল্কের একটি অনুকূল চুক্তির প্রত্যাশা করেছিল এবং মনে করেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১ আগস্টের আগেই চুক্তির ঘোষণা দেবেন। তবে শেষ মুহূর্তে সেই ঘোষণা আসেনি।
ভারতের একাধিক কর্মকর্তা জানান,ওয়াশিংটনে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সফর এবং দিল্লিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সের সফরের পর ভারত আশাবাদী ছিল।
তারা মার্কিন পণ্যের ওপর শূন্য শুল্কের প্রস্তাব দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ। পাশাপাশি মার্কিন গাড়ি ও অ্যালকোহলের শুল্ক ধাপে ধাপে কমানো এবং প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেয়।
কিন্তু ভারতীয় কর্মকর্তারা এখন স্বীকার করছেন, ট্রাম্প যখন একটি "বড়" চুক্তির কথা বলেন, তখন দিল্লি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো সংবেদনশীল খাতে তারা অবস্থান কঠোর করে, যা চুক্তি সম্পাদনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, "আমরা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি পাইনি, যা আমরা চেয়েছিলাম।"
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি যোগাযোগের অভাব। প্রাক্তন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি মার্ক লিন্সকট বলেন, "এক পর্যায়ে উভয় পক্ষই চুক্তি সইয়ের খুব কাছাকাছি ছিল।"
কিন্তু মোদি ট্রাম্পকে সরাসরি ফোন করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, "তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, ট্রাম্প একতরফা শর্ত চাপিয়ে দিতে পারেন, যা প্রত্যাখ্যান করা কঠিন।"
এছাড়া, ট্রাম্পের পাকিস্তান-ভারত সংঘাতের মধ্যস্থতা করার মন্তব্যও আলোচনাকে জটিল করে তোলে। মোদি বারবার বলেছেন, "কাশ্মীর বা পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত ইস্যুতে ভারত তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতা মানবে না।" এই বিষয়টি দুই নেতার সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তোলে।
যদিও বর্তমান পরিস্থিতি অচলাবস্থার ইঙ্গিত দেয়, ভারতীয় সরকার এখনও আশাবাদী। এই মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল দিল্লি সফরে আসছে। কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে ভারত।
রুশ তেলের পরিবর্তে মার্কিন তেল আমদানির বিষয়েও নতুন করে আলোচনা হতে পারে, যদি মূল্য প্রতিযোগিতামূলক হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ও মোদির সরাসরি যোগাযোগ ছাড়া এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়।

কীওয়ার্ডস:
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি, ট্রাম্প-মোদি সম্পর্ক, ভারতীয় পণ্যের শুল্ক, রুশ তেল আমদানি, মার্কিন-ভারত কূটনৈতিক অচলাবস্থা