ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবি: ৬৮ আফ্রিকান অভিবাসীর মৃত্যু, নিখোঁজ ৭০-এর বেশি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৮-০৪ ১২:৪৫:৪৭
image

ইয়েমেন উপকূলে অভিবাসন প্রত্যাশী ও শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৭০ জনের বেশি অভিবাসী। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার, ৪ আগস্ট, ইয়েমেনের আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, নৌকাটিতে মোট ১৫৪ জন ইথিওপিয়ান নাগরিক ছিলেন। আইওএম-এর ইয়েমেন শাখার প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ জানান, দুর্ঘটনার পর ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। খানফার জেলায় ৫৪ জনের মরদেহ ভেসে আসে এবং আরও ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ প্রাথমিকভাবে ৫৪ জনের মৃত্যুর তথ্য দিলেও পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮-এ দাঁড়ায়। নিখোঁজদের খোঁজে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল কাদের বাজামিল জানান, নিহতদের দাফনের জন্য শাকরা এলাকায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেনে অভিবাসনের সমুদ্রপথটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার সংঘাতপীড়িত মানুষজন ইয়েমেনে আশ্রয় নিতে বা উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য এই বিপজ্জনক পথ বেছে নেয়। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর শরণার্থী সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
যদিও ২০২২ সালে হুথি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর সহিংসতা কিছুটা কমেছে, তবুও মানবিক সংকট এখনো বিদ্যমান। আইওএম-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৯৭ হাজার ২০০।
অভিবাসীরা সাধারণত অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকায় লোহিত সাগর পাড়ি দেন। ফলে নৌকাডুবির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে এই রুটে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৩ সালে একাই ৫৫৮ জন প্রাণ হারান এবং গত এক দশকে অন্তত ২ হাজার ৮২ জন নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬৯৩ জনের ডুবে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বর্তমানে ইয়েমেনে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন, যাদের জীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে।

কীওয়ার্ডস: ইয়েমেন নৌকাডুবি, আফ্রিকান অভিবাসী মৃত্যু, ইয়েমেন শরণার্থী সংকট, আইওএম ইয়েমেন প্রতিবেদন, ইয়েমেন সমুদ্রপথ দুর্ঘটনা