মো শা হে দ চৌ ধু রী

  • সারা বাংলাদেশ একটা গ্রাম
  • ২০২৫-০৮-০৩ ০১:১৩:৪০
image

সারা বাংলাদেশ আমার কাছে একটা গ্রাম।
এখানে নদীর গান আছে, পাখির কাকলি আছে,
মাঠে মাঠে সুর আছে, বটবৃক্ষের ছায়া আছে,
আর আছে অগণিত সংগ্রামী মানুষের মুখ --
যেখানে হাসি লুকিয়ে থাকে কষ্টের পেছনে,
চোখে লেখা থাকে অসমাপ্ত সব স্বপ্নের আখর।
এই গ্রামেই আমার বসবাস।
এই ঘরেই জন্ম, এই উঠোনেই প্রথম হাঁটতে শেখা।
আমার শহর মানে গ্রামের ছেলেটার খাতায় আঁকা ছবি,
আমার রাজধানী মানে বিকেলে পুকুরপাড় কাঁঠালের গন্ধে ভরা
আমি ঘুমিয়ে পড়ি রেলগাড়ির ছুটে চলার শব্দে,
আর মেঘলা আকাশে খুঁজি ভালোবাসার চিঠি --
যা কেউ পাঠায় না, তবু প্রতিদিন জমা পড়ে
আমার মনের ধূলিধূসর রংচটা পোস্ট বক্সে।
এই গ্রামে এখনো সূর্য ওঠে পাটক্ষেতের পেছন থেকে,
ডুবে যায় খেজুরগাছের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধের চোখে।
আমার চারপাশে হাঁটে কিশোর মুক্তিযোদ্ধারা,
হাসে শিশির ভেজা পথে স্কুলড্রেস পরে দাঁড়ানো মেয়েটা,
আর আমি টিনের ঘরের ভেতর বসে ভাবি --
এই বাংলায় যদি হারিয়ে যাই, কেউ কি খুঁজে নেবে আমাকে ?
এই গ্রামেই এক বর্ষার দিনে হয়েছিল আমার প্রেম --
যেদিন মাঠের কাদা মেখে হাঁটতে হাঁটতে সে বলেছিল,
"তুই শহরে থাকিস না, থাক এখানে।"
আমি তখনো বুঝিনি -- বাংলাদেশ মানেই আমার ফেরা।
আমি বিশ্বাস করি --
ঢাকা মানে নদী ঘেঁষা একটা ঘর,
চট্টগ্রাম মানে পাহাড় ঘেরা এক উঠোন,
আর কুড়িগ্রাম মানে মা’র চোখে জল।
সারা বাংলাদেশই আমার গ্রাম।
এই গ্রামের নামই আমার হৃদয়ে লেখা,
প্রতিটি প্রান্তে শেকড় গেড়েছে আমার অস্তিত্ব।
আমার দেশ মানে একটা গ্রাম --
যেখানে প্রতিদিন সূর্য ওঠে আমার মায়ের মুখের মতো,
এখানেই আমি বেঁচে আছি, এখানেই মরে যাবো।