সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষকের পদগুলো দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদে নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে।
পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠি তারা পেয়েছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ৬৫ হাজার ৫০২টি। বর্তমানে কর্মরত প্রধান শিক্ষকের সংখ্যা ৩১ হাজার ৩৯৬ জন। ফলে শূন্যপদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ১০৬টি।
এর মধ্যে ২ হাজার ৬৪৭টি পদ সরাসরি নিয়োগের আওতায়। ১০ শতাংশ সংরক্ষিত রেখে অবশিষ্ট ২ হাজার ৩৮২টি পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে পিএসসি অচিরেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে।
১৪ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুহাম্মদ ইউনূস নির্দেশ দেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করতে হবে। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে পিএসসির সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পরপরই মন্ত্রণালয় দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের গ্রেডেশন–সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি হলে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে ৩১ হাজার ৪৫৯টি পদোন্নতি দেওয়া হবে। এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্যপদ অনেকাংশে পূরণ হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
মন্ত্রণালয়ের আশা, এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। পর্যাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও শিক্ষাদান কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে, যা সার্বিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছে দেবে।
কীওয়ার্ডস: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়োগ, প্রধান শিক্ষক শূন্যপদ, পিএসসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন, প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি