বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এ বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা জুলাইয়ের শুরুতে সামান্য কমিয়ে ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। তবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত শুল্ক আরও ১৫ শতাংশ হ্রাস করে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হলো।
শুল্ক কমানোর পেছনে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একাধিক বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের (ইউএসটিআর) সঙ্গে তিন দফা আলোচনা করে। শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত সপ্তাহে, যেখানে পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।
শুল্ক বাড়ানোর ফলে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়, যার মধ্যে ৭০০ কোটির বেশি ডলার আসে তৈরি পোশাক থেকে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ফেরত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি আনতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানিকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সচিবের মতে, এই অর্ডারগুলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং শুল্ক ইস্যুতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
রয়টার্স জানায়, বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত (২৫%), পাকিস্তান (১৯%), শ্রীলঙ্কা (২০%), ভিয়েতনাম (২০%) এবং মিয়ানমার (৪০%)।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানিতে নতুন গতি আনবে এবং তৈরি পোশাক শিল্পে স্বস্তি ফিরবে।
কীওয়ার্ডস:
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক, বাংলাদেশ রপ্তানি খবর, তৈরি পোশাক খাত যুক্তরাষ্ট্র বাজার, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি, বোয়িং উড়োজাহাজ অর্ডার