জুলাই সনদের খসড়ায় মুক্তিযুদ্ধের (১৯৭১) ইতিহাসকে একমাত্র ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর প্রধান সমন্বয়কারী ও সাবেক শিবির নেতা রাফে সালমান রিফাত। তার মতে, বাংলাদেশের মুক্তির ইতিহাস শত বছরের পুরনো সংগ্রামের ধারাবাহিকতা,যা শুধুমাত্র ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাফে সালমান রিফাত জানান, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তান আন্দোলন পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতার মাধ্যমেই ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, “১৯৪৭ সালের মুক্তি সংগ্রামকে পাশ কাটিয়ে গেলে জুলাই সনদ কখনোই পূর্ণতা পাবে না।”
রিফাত অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের খসড়ায় বাংলাদেশের মুক্তির ইতিহাস শুরু করা হয়েছে ১৯৭১ সাল থেকে, যা ইতিহাস বিকৃতির শামিল। তিনি উল্লেখ করেন, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, ফরায়েজী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন, ১৮৫৮ সালের মহাজাগরণ, পাকিস্তান আন্দোলনসহ অসংখ্য সংগ্রাম মুক্তির চেতনার ভিত্তি গড়েছে।
রিফাতের মতে, “১৯৪৭ ছিল স্বাধীনতার প্রথম ধাপ, ১৯৭১ তার চূড়ান্ত ধাপ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সেই প্রক্রিয়াকে পূর্ণতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”
ফেসবুক পোস্টে রাফে সালমান রিফাত অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে একটি বিশেষ দেশকে খুশি করার জন্য পাকিস্তানের সৃষ্টিকে ভুল প্রমাণ করতে চেয়েছে। তার দাবি, এই বয়ান আসলে ‘অখণ্ড ভারত’ প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “১৫ বছরের দিল্লির দাসত্বের শেকল ছাত্র-জনতা জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ছিন্ন করেছে। কিন্তু জুলাই সনদে যদি সত্য ইতিহাস না থাকে, তাহলে এটি ফ্যাসিস্টদের অখণ্ড ভারতমুখী প্রকল্পেরই অংশ হয়ে যাবে।”
রাফে সালমান রিফাত সমালোচনা করে বলেন, জুলাই সনদে বিপ্লবীদের সুরক্ষা ও মর্যাদার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, অথচ জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
তার মতে, বিপ্লবী শহীদ ও আহতদের মর্যাদা নির্ধারণ, তাদের জন্য খেতাব ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননার নিশ্চয়তা সনদে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। নইলে ভবিষ্যতে এই ঘটনাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
রিফাত আরও অভিযোগ করেন, খসড়া জুলাই সনদকে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অঙ্গীকারনামা হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি বিপ্লবের স্পিরিট বাদ দেওয়া হয়, তাহলে এটি আগের অকেজো সংস্কারের মতোই হয়ে যাবে। দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না।”
রাফে সালমান রিফাতের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জুলাই সনদে মুক্তির ইতিহাসের পূর্ণতা, বিপ্লবীদের মর্যাদা এবং সত্য বয়ান অন্তর্ভুক্ত না হলে এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
কীওয়ার্ডস:
জুলাই সনদ, রাফে সালমান রিফাত, মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১, পাকিস্তান আন্দোলন ১৯৪৭, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪