নিঝুম অন্ধকারে ছুটে চলে বিবর্ণ সময়। কোথাও মুখ থুবরে মাটিতে পড়ে কাঁদে নীলকন্ঠ পাখির ছানা। ওঁৎ পেতে থাকে বন বিড়াল আর লোভাতুর শিয়াল। মা পাখি বিদ্যুৎগতিতে তুলে নেয় তার ছানাটিকে ।
দূর জঙ্গলের পথে হাঁটে পথচারী। চকিত পায়ে হাঁটে রাতের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ ক’রে । দিনের আলোকে যেখানে অবাধ চলাচল , রাতে সেই পথে হাঁটে ,ভয়ে বুকে থু থু দেয় অজানা আতঙ্কে ।
বুনো জুঁই আর ভাটফুল সাদা খৈ এর মতন হাসে নীরবে । কোন্ পথ বাউলের মন হরন করে তারা আনন্দে ওঠে মেতে । বাউলের একতারার ছন্দে নেচে ওঠে ওদের কচি নবীন পাতা ।শোনে ওরা নতুন দিনের সুর ।
ওরে , ও অজানা রাত , ভোর হবি কখন ? হেঁকে বলে ভাটি গাঙের মাঝি । বৈঠার পরে হাত রেখে ঝিমিয়ে পড়া হাতটাকে জুড়িয়ে নেয় । ভাঁটার টানে চলে নৌকা । মন পারি দেয় দূর অতীতে , কোন ঘাটে দেখেছিল পর নারীর মুখ । সেই ভালো লাগার আবেশ যোগ হয় ভাঁটার স্রোতে ।
তপ্ত আকাশে জমাট বাঁধে কালো মেঘের দল । ঝির ঝিরিয়ে বৃষ্টি হয়ে পালক ও ঠোঁট ভেজায় চাতক পাখির । রাত্রি হাসে তার এক বুক কষ্ট নিয়ে । রাতের ও যে কষ্ট আছে সেই বুঝি তা জানে ।
ধীরে ধীরে পুবাকাশে আলোর আগমন বার্তা করে আনা গোনা । বিদায় বেলায় রেখে যায় কত রহস্যে ঘেরা অব্যক্ত কথা। রাত্রি ঘুমায় আলোর ঠিকানার বুকে । মনে ভাবে , জাগতে হবে আবার তাকে কত রহস্য আর কষ্ট নিয়ে প্রানে ।।