ছেলেবেলায় বৃষ্টি দেখলে খুব আনন্দ হতো
স্কুলের রেনি'ডে কে আমি রামধনু বলে ডাকতাম
বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে স্কুল যাওয়ার থেকে একদিনের মুক্তি
জানালার কাছে বসে শ্রাবণ দেখা
সারাদিন নিজের মতো কাটানোর আনন্দ আমার শিশু মনে
ছড়িয়ে দিতো হাজার আলো।
তারপর একদিন প্রথম বৃষ্টি এলো আমার শরীর জুড়ে
আমি তখন ক্লাস এইট
অগোছালো ফ্রক বেহায়ার মতো চিহ্ন এঁকে দিয়েছিলো
শরীর ভেজা দাগ দেখে মা বলেছিলেন
এ হলো বৃক্ষে ফল ধরার সূচনা
আমার অস্বস্তিকর গা ঘিনঘিনে ভিজে যাওয়া
মায়ের কাছে আগাম শুভ বার্তা।
এরপর একদিন মনে বৃষ্টি এলো
তখন আমি ক্লাস টেন
বুকের মধ্যে প্রেম প্রেম ভাব
আবেগী প্রেমে ভেসে যেতে যেতে বৃষ্টি আসতো যখন তখন
প্রিয় মানুষটিকে একবার দেখতে চাওয়ার বৃষ্টি
একটু স্পর্শ চাওয়ার বৃষ্টি
অভিমানের পাহাড় ডিঙিয়ে যখন সে কাছে আসতো
আমার মনের আকাশে উঁকি মারতো খুশি।
অবশেষে যেদিন বৃষ্টি এলো চোখে
বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো একরাশ কান্না ছড়িয়ে
আকাশ আমাকে বিচ্ছেদ লিখে দিয়েছিলো
সেই বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমি দুঃখ ভোলার মন্ত্র খুঁজলাম
হাতে তুলে নিলাম কাগজ কলম
শব্দ লিখতে লিখতে কাগজে কবিতার জন্ম হলো
সবাই বাহবা দিয়ে বলল বাহ্ দারুণ
ব্যথাতুর চোখে আলো জ্বলে উঠলো
আমি হাসলাম
বৃষ্টি ভেজা শান্ত স্নিগ্ধ হাসি
সেই মুহূর্তে মন আলো হলো।