যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা: হামাসকে দায়ী করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-২৬ ২২:৫৫:২৮
image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন মোড় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, হামাস ইসরাইলের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে আগ্রহী নয়। শুক্রবার (২৫ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা চূড়ান্ত ধাপে জিম্মি মুক্তির অপেক্ষায় আছি। আর তারা (হামাস) জানে, সবশেষ বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার পর কী হতে পারে। মূলত সেই ভয়েই তারা চুক্তি করতে চায় না।”
তিনি আরও যোগ করেন, হামাস প্রকৃত অর্থে কোনো সমঝোতায় যেতে চায় না এবং তাদের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করছে, তারা নিজেরাই ধ্বংস ডেকে আনছে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে এখনই আগ্রহী নয়। বরং তারা কেবল সাময়িক বিরতি চাইছে, যাতে ইসরাইলি জিম্মিদের নিরাপদে গাজা থেকে ফিরিয়ে আনা যায়।
তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ জানান, আলোচনায় ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা কমে গেছে। কারণ, হামাস আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে না।
অন্যদিকে, ইসরাইলও কাতারে চলা আলোচনায় তাদের প্রতিনিধিদল প্রত্যাহার করেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলের একটি আটকশিবিরে সরিয়ে নেওয়া হবে, পরবর্তীতে পুরো গাজা খালি করার লক্ষ্যে।
হামাস যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, “আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি চুক্তি চেয়েছি এবং গঠনমূলক অবস্থান নিয়েছি।”
তাদের মতে, কাতার ও মিশরও এই ইতিবাচক অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে। হামাস বলছে, তারা কেবল স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্যই আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে, যাতে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হয়।
গত কয়েক মাস ধরে গাজায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, হামাস এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও মিশর জড়িত ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ জন ইসরাইলি জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ইসরাইল গাজায় হামলা বন্ধ রাখবে।
তবে ইসরাইলি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জিম্মিরা মুক্তি পেলেই তারা আবারও সামরিক অভিযান চালাবে এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করবে।
চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ঘোষণা করেছিলেন, “যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও গাজায় আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি।”
এই ঘোষণার পর গাজার পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনার ব্যর্থতা নতুন করে ভয়াবহ সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

কীওয়ার্ডসঃ