অফিসে,ফিল্ডে,আড্ডায়,বাসে,
ভীরে,বাজারে কোথায় যেন একটা নেই,
কোথায় যেন একটা ফেরার তাড়না।
মনে হয় কি যেন খুঁজে বেড়াচ্ছি!
অনেক পথ পাড়ি দিয়ে শরীর বলতে যা বুঝি
সেখানেও দেখি আমার শরীর নেই।
আমার স্মৃতির গ্রাম,
পাশের বাড়ির ঝুলে থাকা আতা গাছটা,
জীর্ণ রূপার বাজার প্রাইমারী স্কুলের সামনের বড় মাঠ,
রাস্তার পাশে ফলে নুয়ে পড়া টক কামরাঙা
কিংবা জীর্ণ ইউনুস কবিরাজের উঠানে জ্বলে থাকা বেলিফুল
আমরা ওকে কাগজফুল বলতাম
এক উঠোন ভরা ভেজা পাটকাঠির সারি যেখানে ছিল নিত্য লুকোচুরি,
তালপুকুরে গাছ থেকে লাফ দিয়ে পড়া, সব চুরি হয়ে গেছে সময়ে!
মন এক অলৌকিক বিস্ময়,সব কিছু সঞ্চয় করে রাখে।।
অতীত একটা ভিনদেশ যর্থাথই স্মৃতি ঘর,
যেখানে রওনা দিলেই আপনি ইচ্ছে করলেও আর কখনো
পোঁছাতে পারবেন না সেই স্মৃতির ভিনদেশটায়।
স্মৃতির সেই বটগাছটা হয়ত আপনি খুঁজে পাবেন,
কিন্তু সে গাছটার শেকড় হয়ত এখন বাঁধানো।
যে শেকড়ে বসে কত্ত মনখারাপের দিন কাটিয়ে দিয়েছেন,
সেখানে এখন চা- কফির দোকান,
বিভিন্ন রকমের দেশি বিদেশি রঙ-বেরঙের চিপসের সমাহার।
হায়!স্মৃতির সে বট গাছটি আর নেই।
পথের পাশেই পথটি চোখে পড়লো,
ছাত্রাবস্থায় যে আবেগ নিয়ে আমি 'সাতকাহন' এর দ্বীপানিতার হাত ধরে চলেছিলাম,
মাধবীলতার সাথে টর্চার শেলে আবদ্ধ থেকে 'কালপুরুষ' এর সাথে
মিশে গিয়ে সারারাতের জেগে থাকা চোখে মেসের কাঠের চেয়ারে বসে
আবারো বুঁদ হয়ে খুলেছি 'উত্তরাধিকার' ;
আজ হুট করে কোথা থেকে যেন সেই পাঠক মন
নিজে থেকেই আবার সেভাবে হাঁটা শুরু করেছে পথটি ধরে......!