মো শা হে দ চৌ ধু রী

  • চে গুয়েভারার শেষদিন
  • ২০২৫-০৭-২৬ ০১:৪১:১০
image

চে তখন ক্লান্ত --
গহীন অরণ্যে তিনদিন ধরে ক্ষুধায় কাতর, পানি নেই আশ্রয় নেই
সহযোদ্ধারা ছড়িয়ে পড়েছে জঙ্গলের গাছের ছায়ায়,
কারো দেহ নিথর, কেউ রক্তাক্ত --
তবু চে সোজা হয়ে বসে আছেন,
এক হাতে ধরা পুরনো নোটবুক, অন্য হাতে রক্তমাখা পেনসিলে
লিখে যাচ্ছেন জীবনের শেষ কথা
মানবমুক্তির অসমাপ্ত রূপরেখা।
বিকেলে তাকে ঘিরে ফেলে বলিভিয়ার সেনারা,
অথচ তিনি গুলি চালাননি।
ধরা পড়ার পর শুধু বলেছিলেন,
আমি চে গুয়েভারা -- জীবিত ধরো, কারণ মৃত চে হবে আরো ভয়ংকর।
তাঁকে নেয়া হলো স্কুলঘরের এক ছোট্ট কক্ষে --
সেখানে মেঝেতে পাতা কিছু শুকনো খড়
আর এক কোণে ভাঙা বেঞ্চ, চে বসেছিলেন শান্ত হয়ে
কোনো অনুতাপ কিংবা ভীতি ছিল না চোখেমুখে
শুধু ভাবনার গভীর রেখা, যেন অপেক্ষা করছেন
বুক পেতে নেবেন জান্তার বুলেট।
শেষ রাতে এক সৈনিক তাকে জিজ্ঞেস করেছিল
-- তুমি কি মৃত্যুকে ভয় পাও না ?
চে হেসে বলেছিলেন,
-- মৃত্যু ? না। মৃত্যুকে আমি জানি
আমি মৃত্যুকে ভালোবাসি যদি তা কোনো শিশুর মুখে হাসি ফোটায়।
পরদিন সকালে এক কাপ কফি এনে দেয় নার্স,
চে তাকে ধন্যবাদ দেন স্প্যানিশে,
চোখে তখনো আগুন --
সেই আগুন, যা জ্বলে ওঠে ন্যায়ের পক্ষে, শোষণের বিরুদ্ধে।
তারপর যখন সৈনিক আসে ট্রিগার টানতে,
চে বলে ওঠেন, গুলি করো কাপুরুষ !
এবং তখন
একটি গুলি ইতিহাসের বুকে থেমে যায়
আর চে হয়ে ওঠেন
রক্তলেখায় একটি কালোত্তীর্ণ কবিতা।
বলিভিয়ার সেই স্কুলঘরের দেয়ালে আজো ধুলো জমে,
কিন্তু চে’র ছায়া এখনো আছে মেঝের কোণে
চুপচাপ তাকিয়ে থাকে পাহাড়ের দিকে,
যেখানে বুনো ফুল ফোটে,
আর গোপনে গোপনে জন্ম নেয় নতুন কোনো বিপ্লবী।