থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তে এক দশকের ভয়াবহ সংঘর্ষে উত্তাল জনপদ,আশ্রয় নিয়েছে লাখো মানুষ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৭-২৫ ১৪:২৮:১৯
image

কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ অবশেষে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই সঙ্ঘাতে এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত এবং এক লাখেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে ঘরছাড়া হয়েছেন।
থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী অন্তত চারটি প্রদেশ থেকে ৩০০টির বেশি অস্থায়ী শিবিরে মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন বেসামরিক এবং ১ জন সেনা সদস্য রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে উভয়পক্ষের সেনাবাহিনী সীমান্তে ব্যাপক অস্ত্র মোতায়েন করে। যুদ্ধবিমান, কামান, রকেট লঞ্চার এবং ট্যাংক ব্যবহার করে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘসময় গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণ চলে।
শুক্রবার সকালে কম্বোডিয়ার সামরোং শহরে আবারও গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে, যা শহরটির জনজীবনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রো বাক (৪১) বলেন, “আমি সীমান্তের খুব কাছে থাকি। সকাল ৬টায় আবার গুলি শুরু হলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বৌদ্ধ মন্দিরে আশ্রয় নিতে যাই। জানি না আর কখন বাড়ি ফিরতে পারবো।”
কম্বোডিয়ার রকেট লঞ্চার সজ্জিত সেনাদের সীমান্তের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একদিকে তীব্র গোলাগুলি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ছুটে চলা-উভয় পরিস্থিতির মধ্যে দোদুল্যমান সীমান্ত অঞ্চল এখন রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র।
কম্বোডিয়ার অদ্দার মিনচি প্রদেশের বানতেয় আমপিল জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেথ মিয়াস ফিয়াকদে জানিয়েছেন, “জেলাটির অন্তত ১,৫০০ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত সংঘর্ষে এক বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।”
থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকেও জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হেলিকপ্টার ও সামরিক যান ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি এতটাই সংকটময় হয়ে উঠেছে যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। সংঘর্ষ থামাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল থেকে দুই দেশকেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “দুই দেশের মধ্যে বহুদিনের সীমান্ত উত্তেজনা থাকলেও, এবারের সংঘর্ষ এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং তা বেসামরিক জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।”
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত রেখা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। বিশেষত প্রে ভিহিয়ার মন্দির সংলগ্ন এলাকা ও কিছু পাহাড়ি অঞ্চল নিয়েই বারবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
উভয় দেশই ঐতিহাসিক অধিকার দাবি করে এসব এলাকায়, যা মাঝে মাঝেই সামরিক উত্তেজনায় রূপ নেয়।
উত্তপ্ত সীমান্ত পরিস্থিতিতে দুই দেশের বেসামরিক জনগণ অসহায় হয়ে পড়েছে। কেউ ঘরছাড়া, কেউ শিবিরে আশ্রিত, আবার কেউ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ এবং তাৎক্ষণিক সংলাপ ছাড়া এই সংঘর্ষ সহজে থামার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

কী-ওয়ার্ডসঃ ThaiCambodiaClash,BorderConflict,SoutheastAsiaWar,কম্বোডিয়াসংঘর্ষ,থাইল্যান্ডসীমান্ত