মাইলস্টোন: একটি দুপুরের মৃত্যু

  • মানিক পাল
  • ২০২৫-০৭-২৫ ০১:৩৯:৪২
image

দুপুরটা ছিল অস্বাভাবিক।
রোদ নয়, আকাশ থেকে  ঝরছিল আগুন!
পুড়ে যাওয়া শিশুর পোশাকে ছড়িয়ে পড়ছিল জ্বলন্ত নিঃশ্বাস।
চোখে ভয়-শরীরে ছাই, বুকের ভেতর এক অজানা আতঙ্ক,,,,,
জীবন নয়, তখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন ছিল,,,
“হাসপাতাল কত দূরে?”

এম্বুলেন্স তখনও আসেনি।
এক তরুণ কোলে তুলে নিয়েছিল এক আহত শিশুকে,
তার পা থেকে খসে পড়ছিল চামড়া,
তবু সে দৌঁড়াচ্ছে…
তার সামনে আটকে থাকা একটি সিএনজি,
ড্রাইভার জানালার ফাঁক দিয়ে বলে,,,
“এক হাজার টাকা না দিলে যাবো না।”
রিকশাওয়ালা, যে রোজ ত্রিশ টাকায় যায়,,
আজ তার দাবি,,,ইচ্ছেমতো, দুইশো, তিনশো!

শিশুগুলোর কান্না থেমে গেছে,,,
তাদের চোখে জ্বলছে শব্দহীন যন্ত্রণায়,
গলায় জমে আছে দম আটকে আসা আর্তনাদ।
একটা প্রাইভেট কারও থামে না,,,
বড্ড তাড়াহুড়ো, কিংবা পোড়া শরীরের গন্ধে 
গা গুলিয়ে ওঠে ভেতরের মানুষের।

তবু সবাই না।
একজন বাইকচালক থেমে যায়,
আরেকজন নিজের জামা ছিঁড়ে দেয় প্রথম সাহায্যের জন্য।
একজন মা নিজের ওড়না ছিঁড়ে
শিশুটার দগ্ধ শরীর ঢেকে বলছিল,,,
“ধৈর্য ধর মা, তুই বাঁচবি।”

তখনো কেউ জানত না,
একজন শিক্ষিকা, যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে
কুড়িরও বেশি শিশুকে বার করেছিলেন আগুনের ভেতর থেকে,
শেষপর্যন্ত নিজেই চলে গেলেন ওপারে।
সেই শিক্ষিকাকে কেউ মনে রাখবে কি?

কিন্তু বড় প্রশ্নটা এখনো ঝুলে আছে,,,
কেন একটি পুরনো, ব্যাকডেটেড প্রশিক্ষণ বিমান
একটি জনবহুল শহরের উপর দিয়ে উড়বে?
কেন তাদের প্রশিক্ষণের জায়গা শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গা ঘেঁষে?

এদেশে মৃত্যু ফেসবুকে ভাইরাল হয়,
নামের পাশে জ্বলজ্বলে রিয়্যাকশন জমে,,,
কিন্তু বাস্তব রাস্তায়?
সেখানে কান্নার দাম রিকশাভাড়ায় বাড়ে,
আর ভালোবাসা কিনতে হয় টাকায়।

তবু,,,,,
সব মানুষ অমানুষ হয়নি।
যে সিএনজি ড্রাইভার থেমে বলে,,,
“চলেন ভাই, টাকা লাগবে না,”
যে রিকশাওয়ালা নিজের হাতে ধরে তোলে শিশুকে,
যে শিক্ষিকা চোখে চোখ রেখে বলে,,,
“তোমরা কাউকে ভয় পাবে না”,,,,
তারা এখনো প্রমাণ রাখে,,,
এই ধুলোমাখা দেশে মানুষ এখনো আছে।