তুলসি গ্যাবার্ডের বিস্ফোরক অভিযোগ: ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা অপব্যবহারের দাবি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-২৪ ১৩:১৬:৫৪
image

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেস সদস্য এবং একসময়ের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তুলসি গ্যাবার্ড ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে গ্যাবার্ড বলেছেন, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল।বৃহস্পতিবার (২৪ তারিখ) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।
বুধবার (২৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে গ্যাবার্ড বলেন, সম্প্রতি জনসমক্ষে আসা হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির একটি ডিক্লাসিফায়েড রিপোর্ট অনুযায়ী, ওবামা প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে এমন এক গোয়েন্দা মূল্যায়ন তৈরি করেছিল, যাতে প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হয় রুশ সরকার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জেতাতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। এই মূল্যায়ন, তার ভাষায়, “একটি রাজনৈতিক অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে।
গ্যাবার্ড আরও বলেন, “২০১৭ সালের গোয়েন্দা মূল্যায়নটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। এটি আমেরিকান জনগণের ইচ্ছাকে অসম্মান করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।” তার মতে, প্রশাসনের কিছু অংশ এবং কিছু প্রভাবশালী গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করে বছর বছর ধরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক বয়ান চালিয়ে গেছে।
গ্যাবার্ডের এই দাবিকে তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার দপ্তর। ওবামার মুখপাত্র প্যাট্রিক রোডেনবুশ বলেন, “এ ধরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি জনসাধারণের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়ার একটি কৌশলমাত্র।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের চেষ্টার তথ্য তখনকার গোয়েন্দা মূল্যায়নে যেমন ছিল, তেমনি সেটি ২০২০ সালে মার্কিন সিনেটের দ্বিদলীয় গোয়েন্দা কমিটির প্রতিবেদনে আবারও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সে হস্তক্ষেপ কোনো ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করেনি।”

তুলসি গ্যাবার্ড যে রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি মূলত ২০১৭ সালে হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির রিপাবলিকান সদস্যদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়। পরে ২০২০ সালে সেটিতে কিছু সংশোধনী আনা হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বেশিরভাগ বিশ্লেষণ নির্ভরযোগ্য হলেও রাশিয়ার ভূমিকা এবং ট্রাম্পকে সমর্থন করার অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ পর্যাপ্ত মানদণ্ডে হয়নি। অভিযোগ আছে, রিপোর্টটি তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা হয়।
সিএনএনের মতে, গ্যাবার্ডের বক্তব্যের পক্ষে সরাসরি কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বরং উল্টোভাবে, ২০২০ সালের নির্বাচনে ফল পাল্টাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই যে ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে-তা নিয়ে আদালত ও কংগ্রেসে রয়েছে বিশদ প্রমাণ।
তুলসি গ্যাবার্ডের এই বক্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষত, ট্রাম্প সমর্থক শিবিরে এই মন্তব্যকে স্বাগত জানানো হলেও বিরোধী পক্ষ এটিকে “প্রতিহিংসাপরায়ণ” এবং “তথ্য বিকৃতি” হিসেবে দেখছে।
তবে এ কথাও সত্য-গ্যাবার্ড নিজেই কয়েক বছর আগে ডেমোক্রেটিক পার্টি ত্যাগ করে একটি মধ্যমপন্থী অবস্থানে চলে যান এবং নানা ইস্যুতে রিপাবলিকানদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন। তাই এই অভিযোগ রাজনৈতিক কৌশল নাকি তথ্যভিত্তিক-তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।