উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনা: অর্থ সহায়তা চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার পেজে পোস্ট,সমালোচনার মুখে সরিয়ে নেওয়া

  • সকালের আলো ডেস্ক
  • ২০২৫-০৭-২২ ১৬:৩৭:২১
image

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের পর হতাহতদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে। সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে ‘ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে’ অর্থ সহায়তার আহ্বান জানানো হয়।
তবে পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে বিষয়টিকে ‘সরকারি দায়িত্ব এড়িয়ে জনতার কাছ থেকে সাহায্য চাওয়ার কৌশল’ বলে মন্তব্য করেন। সমালোচনার মাত্রা বাড়লে কিছুক্ষণের মধ্যেই পোস্টটি পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পোস্ট মুছে ফেলার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।

দুপুর ২টার কিছু পর প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে পোস্টটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে লেখা ছিল:
“মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যারা অর্থ সাহায্য করতে চান, তারা উপরোক্ত ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের উল্লেখিত নম্বরে তা জমা দিতে পারেন।
হিসাবের নাম: প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল
চলতি হিসাব নম্বর: ০১০৭৩৩০০৪০৯৩
ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় করপোরেট শাখা।”
এই পোস্টের স্ক্রিনশট মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে।
সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকরা সামাজিক মাধ্যমে সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।
একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী খাদিজাতুল কোবরা লেখেন: “আমি এত দিনে বুঝতে পেরেছি, বন্যার সময় টাকা তুলব না বলাতে মানুষ কেন জিনিসটা মানতে পারে নাই। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা টাকা চাচ্ছে বাচ্চাদের চিকিৎসার জন্য! মাশা আল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ! আমার আসলেই আর কিছু বলার নাই।”
আরেকজন মন্তব্য করেন: “মানে একদিন না যাইতেই সরকারের ক্রাউড ফান্ডিংয়ে যাওয়া উচিত-এই বুদ্ধিটা কোন উজবুক সরকারকে দিল?”
প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠতেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পোস্টটি প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু ইতোমধ্যে সেটি সংরক্ষণ করে অনেকে শেয়ার করে ফেলেছেন।
তবে আরও প্রশ্ন উঠেছে, পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রেস উইংয়ের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পোস্টটি এখনো বিদ্যমান রয়েছে। জানা যায়, এটি শেয়ার করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপদেষ্টারা শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক বলে স্বীকার করলেও, একইসঙ্গে অর্থ সহায়তা চেয়ে জনগণের কাছে আবেদন করায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে-এই দুর্ঘটনার দায় সরকার এড়িয়ে যাচ্ছেন কি? কেন সরকারের নিজস্ব বাজেট থেকে জরুরি তহবিল বরাদ্দ না দিয়ে জনতার দানভাণ্ডার খোলার চিন্তা করা হলো?
উল্লেখ্য, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান জরুরি অবতরণের সময় স্কুল ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। এতে এ পর্যন্ত অন্তত ২৭ জন নিহত ও বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা ও তার পরবর্তী সরকারিভাবে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। ফেসবুক পোস্ট সরিয়ে দিলেও তার প্রভাব পড়ে গেছে জনগণের হৃদয়ে। স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে সরকারের অবস্থান আরও পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

কিওয়ার্ডসঃ উত্তরাবিমানদুর্ঘটনা,MilestoneCrash,ত্রাণতহবিলবিতর্ক,ChiefAdviserBangladesh,GovernmentCrowdfunding