গয়েশ্বরের হুঁশিয়ারি: “জামায়াত কিয়ামত পর্যন্তও ক্ষমতায় আসতে পারবে না”

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-২১ ০৩:৫৮:৫৩
image

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফেরার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “জামায়াত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে নানা দাবি তুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বাস্তবে, তাদের আর কখনও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই-এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলছি।”
রবিবার (২০ জুলাই) মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দামলা এলাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু'র বাসভবনে এক রাজনৈতিক বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর এই মন্তব্য করেন।
জামায়াতের অবস্থান নিয়ে গয়েশ্বর বলেন- “তাদের দাবি কেবল নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে জটিল করতেই। আওয়ামী লীগ না থাকলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে-এ বাস্তবতাকে জামায়াত মেনে নিতে পারছে না।”
 তিনি আরও যোগ করেন-“জামায়াত পাকিস্তানেও আছে, ভারতেও আছে। কিন্তু তারা জনগণের ভাষা বুঝতে চায় না, তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষা নিয়েই ব্যস্ত।”
ক্ষমতার প্রশ্নে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন- “আমি বিশ্বাস করি, কিয়ামত পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার কোনও সুযোগ বাংলাদেশে নেই।”
এমন মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন জামায়াত ও বিএনপির অতীত রাজনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জামায়াত গত কয়েক মাসে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে সরব অবস্থান নিয়েছে এবং রাজনৈতিক জোট বা সমন্বয় ছাড়াই পৃথক আন্দোলনের কথা বলেছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে জামায়াতের অনুপস্থিতি ও নিজেদের 'ইসলামী দল' হিসেবে পুনরায় বৈধতা চাওয়ার কৌশল অনেক পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে "বিচ্ছিন্ন রাজনীতি" বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গয়েশ্বরের বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি একদিকে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছে-তারা জামায়াতের সঙ্গে বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা রাখতে চাইছে না। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রতি কিছুটা কৌশলগত দূরত্ব তৈরি করে, জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অবস্থান নিতে চায়।
অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ-বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মীর সরফত আলী সপু-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক
মহসিন আলী খান- সাবেক পররাষ্ট্র সচিব আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল ও জসিম মোল্লা,মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য
মাহমুদ হাসান ফাহাদ, জেলা নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক, তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই স্পষ্ট বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপি ভবিষ্যতে কোনো জোট করবে কি না, জামায়াতের প্রতি তাদের অবস্থান কতটা কৌশলগত-তা নিয়ে আগাম রাজনৈতিক পরিবেশে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

কিওয়ার্ডস: গয়েশ্বরচন্দ্ররায়,জামায়াতবিএনপিসংকট,বাংলাদেশরাজনীতি২০২৫,BNPJamaatSplit