ভারতের অতিথি হচ্ছেন বাংলাদেশি নেতারা: মোদি সরকারকে কড়া বার্তা দিলেন মমতা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-১৯ ০১:০৮:০৮
image

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও এমপিরা বর্তমানে ভারত সরকারের “রক্ষায়” কলকাতায় অবস্থান করছেন-এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে ভারতের কেন্দ্রীয় মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি কি কোনো বাধা দিয়েছি? দিইনি। কারণ রাজনৈতিক বিষয় আছে। ভারত সরকার তাদের অতিথি হিসেবে রেখেছে।”
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) নিউটাউনের এক সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বাংলা ভাষাভাষীদের হেনস্তা’ প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “পার্শ্ববর্তী দেশ বিপদে পড়েছে-এমনটাই যদি হয়, তাহলে ভারত সরকার কেন বাংলাদেশি নেতাদের অতিথি হিসেবে রাখছে? আমি কোনোদিন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলি নাই।”
পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলা হচ্ছে, এমনকি রোহিঙ্গা পর্যন্ত বলা হচ্ছে। এটা চলতে পারে না। যারা এটা বলছে, তারা জানে না বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা বিশ্বে পঞ্চম, আর এশিয়ায় দ্বিতীয়।”
মমতার অভিযোগ, “ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হচ্ছে, বাংলায় কথা বললেই রিপোর্ট করুন। এসব বর্ণবাদী আচরণ চলছে কেন্দ্রীয় মদদে। অথচ যারা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তাদের তো আপনারাই অতিথি করে রেখেছেন।”
যদিও মমতা কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্র বলছে-বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে হওয়া সরকার পরিবর্তনের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বর্তমানে কলকাতায় রয়েছেন। এদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রীরা যেমন আছেন, তেমনি আছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এদের ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ ও ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়’ ভারত সরকারের সক্রিয় ভূমিকা আছে বলে অনেকে মনে করছেন।
মমতার বক্তব্য যেন সেই রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় প্রশ্ন তুলেই নয়, প্রকাশ্য প্রতিবাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওপার বাংলায় ছিল বলেই কারও বাংলায় টান থাকতেই পারে। তাই বলে তাঁকে বাংলাদেশি বলাটা অন্যায়। অনেকেই ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর কিংবা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে চলে এসেছেন। তারা এদেশের নাগরিক, কেউই বাংলাদেশি নন।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭১ সালের পর যারা এসেছেন তারাও এ দেশেরই নাগরিক হিসেবে গণ্য হয়েছেন। তারা আশ্রিত নয়, অতিথিও নয়, তারা ভারতীয়।”
মমতা বলেন, “আপনারা একদিকে বাংলাদেশি নেতাদের কলকাতায় রেখে অতিথি বলবেন, আবার অন্যদিকে বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে তাড়াবেন-এটা দ্বিচারিতা নয় কি? আমি কোনোদিন ভারত সরকারের রাখা কারও বিষয়ে প্রশ্ন তুলিনি, কারণ আমি জানি, ওটা রাজনৈতিক বিষয়। তাহলে আপনারা কেন ভাষা ও পরিচয় নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করছেন?”
বক্তব্যের শেষ দিকে মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের অপমান করলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ছাড় দেবে না। ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস-সবই আমাদের অহংকার। আজকে যারা ক্ষমতায় আছে, তারা যেন এসব ভুলে না যায়।”

হ্যাশট্যাগ: 

#মমতাবন্দ্যোপাধ্যায় #বাংলাদেশিনেতাকলকাতা #আওয়ামীলীগআশ্রয় #বাংলাভাষাভাষী #IndiaBangladeshPolitics
#MamataBanerjee #BangladeshLeadersInIndia #AwamiLeagueExile #BengaliIdentity #IndoBanglaTension