রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ‘জুলাই সনদ’-এর আহ্বান শিশির মনিরের: সংবিধান স্থগিত করে নির্বাচন

  • সকালের আলো ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-১৮ ১৩:০০:৪৪
image

দেশের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে একটি ‘সংবিধানিক রূপরেখা’ হিসেবে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রস্তাব দেন।
শিশির মনির বলেন, “এতো প্যাচাল কেন? সোজাসুজি কন। ৭ দিনের মধ্যে জুলাই ঘোষণা দিক। ১৫ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ দিক। সংবিধান স্থগিত হউক। সনদের অধীন নির্বাচন হউক। সংসদ আসুক। কেল্লা ফতেহ।”
তার প্রস্তাব অনুযায়ী:
৭ দিনের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে ‘জুলাই ঘোষণা’ দিতে হবে।
১৫ দিনের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করতে হবে।
এরপর সংবিধান স্থগিত রেখে একটি অন্তর্বর্তী সাংবিধানিক রূপরেখার অধীনে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হবে নতুন সংসদ, যা দেশে স্থিতিশীলতা ফেরাবে।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ফৌজদারি আইন ও সংবিধান বিষয়ে বিশিষ্ট গবেষক। বিগত এক দশকে তিনি রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার, রাজনৈতিক সংস্কার ও আইনের শাসন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিভিন্ন সময় তার ফেসবুক পোস্ট এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত মতামত আইন ও রাজনীতিতে নীতিগত বিতর্কের সূচনা করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ এক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনী পদ্ধতি, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক কাঠামোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে শিশির মনিরের 'জুলাই সনদ' প্রস্তাব:
একটি সংবিধানিক ব্রেকথ্রু প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহজ ভাষায় গ্রহণযোগ্য একটি রূপরেখা তৈরি করে দিতে পারে।
জনগণ, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তরের জন্য বিশ্বাসযোগ্য সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে।

অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের ভাষায়, “বর্তমান সংবিধান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ব্যর্থ। তাই সাময়িকভাবে তা স্থগিত করে একটি রাজনৈতিক সনদের ভিত্তিতে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ও সরকার গঠন জরুরি।”
এমন একটি প্রস্তাব অবশ্য বিতর্কিতও হতে পারে। অনেক সংবিধানবিদ ও বিশ্লেষক সংবিধান স্থগিতের বিপক্ষে। তবে শিশির মনিরের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ‘সংবিধানের বাইরে নয়, বরং জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে নতুন এক অন্তর্বর্তী রূপরেখা’
‘জুলাই সনদ’ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো দল বা জোটের কাছে গৃহীত হয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই শিশির মনিরের স্পষ্ট ভাষা ও কার্যকর চিন্তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ কেউ এটিকে ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথনকশা’ হিসেবেও দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. কামরুল হাসান জানান, “শিশির মনিরের প্রস্তাব তাত্ত্বিক দিক থেকে সাহসী, তবে বাস্তবায়নযোগ্য কিনা তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।”
১৯৭৫ সালের ‘বাকশাল রূপরেখা’, ১৯৯৬ সালে ‘জাতীয় সংসদে সর্বদলীয় ঐকমত্য’ ও ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত সরকারের অধীনে গৃহীত কিছু সংস্কার চেষ্টা-এসবই রাজনৈতিক সংকটের সময় বিকল্প পথ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা ছিল।
‘জুলাই সনদ’ এই ধারাবাহিকতাকে এক নতুন আঙ্গিকে হাজির করেছে, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ, দলীয় সহমত এবং সংবিধানের গঠনমূলক স্থগিতাদেশ-all in one solution-রূপে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শিশির মনিরের ‘জুলাই সনদ’ রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একটি ব্যতিক্রমী ও বিকল্পমুখী প্রস্তাব। যদিও এটি এখনো বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে, তবে এটি জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।

কিওয়ার্ডস: জুলাই সনদ ২০২৫, শিশির মনির সংবিধান প্রস্তাব, বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংকট সমাধান, সংবিধান স্থগিত নির্বাচন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জুলাই সনদ