বাংলাদেশে স্টারলিংকের নতুন যাত্রা: ঢাকায় এল স্পেসএক্স প্রতিনিধিদল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-১৮ ১২:৩৮:০৪
image

বাংলাদেশে ডিজিটাল সংযুক্তির নবযুগ সূচনার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল দেশ। শুক্রবার (১৮ জুলাই) মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকায় পৌঁছেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার। তার সঙ্গে রয়েছেন আন্তর্জাতিক কৌশল ও সরকারি সম্পর্ক বিষয়ক পরিচালক রিচার্ড গ্রিফিথস।
স্পেসএক্সের অধীনস্থ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ইতিমধ্যে গত মে মাসে বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। তবে এ সফরের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো-
বাংলাদেশের গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিস্তারে স্টারলিংকের ভূমিকা নির্ধারণ,
সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব মডেল যাচাই,
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে নীতিনির্ধারণী বৈঠক।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্টারলিংক সেবার গতিশীলতা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নতুন রূপ নিতে পারে।
আজ প্রতিনিধিদলটি সাক্ষাৎ করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে।
বিকাল ৫টা: হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজন করা হয়েছে এক প্রেস কনফারেন্স। এখানে স্টারলিংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন ড্রেয়ার ও গ্রিফিথস এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন।
রাত: হাতিরঝিলে 'জুলাই পুনর্জাগরণ' অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রতিনিধি দল, যা আয়োজন করা হয়েছে গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে।
বিশ্বজুড়ে স্টারলিংক ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে, যেখানে মোবাইল টাওয়ার পৌঁছায় না, সেখানেও তারা স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে পারে। বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চল বা সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যেসব স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা অফিস এখনও অনলাইনের বাইরে, সেসব জায়গায় সংযোগ পৌঁছে দিতে পারে স্টারলিংক।
এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, "এই প্রযুক্তি ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাসে ভূমিকা রাখবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সেবা আরও কার্যকর হবে।"
লরেন ড্রেয়ার: স্টারলিংকের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ, বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তের দায়িত্বে আছেন।
রিচার্ড গ্রিফিথস: বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে স্টারলিংকের সম্পর্ক ও নীতিনির্ধারণী চুক্তির পরিচালনায় নিয়োজিত। তিনি এর আগেও বাংলাদেশ সফর করেছেন।
ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার শুরু থেকেই বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে আগ্রহী। তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন। স্টারলিংকের অংশগ্রহণ সেই লক্ষ্যপূরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সফর শেষে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর বা সমঝোতা স্মারক (MoU) হতে পারে, যার মাধ্যমে স্টারলিংক আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ২০টি পরীক্ষামূলক জেলায় সেবা সম্প্রসারণ করবে।
স্টারলিংকের এই সফর কেবল একটি ব্যবসায়িক পরিদর্শন নয়, বরং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এখন অপেক্ষা, কত দ্রুত গ্রামীণ মানুষ এই সেবা হাতে পাবে।

কিওয়ার্ডস:স্টারলিংক বাংলাদেশ, স্পেসএক্স সফর ঢাকা, ড. ইউনূস ডিজিটাল রূপান্তর, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাংলাদেশ, Starlink Internet Service BD