পূর্ব ইরাকের আল-কুট শহরের একটি হাইপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) গভীর রাতে আল-কুট শহরের একটি পাঁচতলা সুপারশপে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।
রাতভর আগুনে পুড়তে থাকে ভবনটি, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া। স্থানীয় সময় অনুযায়ী মধ্যরাতের পর আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, “হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়, তারপর পুরো ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কিছু মানুষ জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে বাঁচার চেষ্টা করেছেন।”
দমকল বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্যরা রাতভর চেষ্টা চালিয়েও আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
সকালে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, “অগ্নিনির্বাপক বাহিনী পুরো ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। ধ্বংসস্তূপে এখনো অনেক মানুষ আটকা থাকতে পারে।”
ওয়াসিত প্রদেশের গভর্নর মুহান্না আল-তামিমি জানিয়েছেন, “এটি একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। আমরা দুঃখিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে আছি।”
তিনি আরও জানান, “আমরা সুপারমার্কেট ও ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে:
ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে
দমকল বাহিনী ছাদে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে
আশপাশের লোকজন আতঙ্কে দৌড়াচ্ছেন
ভিডিওতে আতঙ্কিত ক্রেতা ও দোকানকর্মীদের চিৎকারও শোনা গেছে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আগুন কীভাবে লেগেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গভর্নর বলেছেন, “প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হবে। আমাদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ না করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট অথবা মজুত কেমিক্যাল থেকে বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,
৫০ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে
৩০ জনের মতো এখনো নিখোঁজ
অন্তত ৭৫ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে রক্ত সংকট দেখা দিয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবকদের রক্তদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরাকের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে:
“অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।”
তারা আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইরাকের মতো নিরাপত্তাজনিত সংকটপূর্ণ একটি দেশে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং নিরাপত্তা ও ভবন ব্যবস্থাপনার গভীর ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সকালের আলো ডট কম এই দুঃখজনক ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায় এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে।
কিওয়ার্ডস: ইরাক অগ্নিকাণ্ড ২০২৫, আল-কুট শপিংমল আগুন, হাইপারমার্কেট অগ্নিকাণ্ড ইরাক, ইরাকে ৫০ জন নিহত, ইরাক আন্তর্জাতিক সংবাদ