শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দ্রুতগামী মাইক্রোবাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনা ঘটে রোববার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার রাংটিয়া-মধুটিলা সড়কের বড় রাংটিয়া মোড় এলাকায়।
নিহত তিন শিক্ষার্থী হলেন-
সাকিবুল হাসান (১০), পিতা গোলাপ হোসেন
জাকারিয়া (১২), পিতা জহুরুল ইসলাম
ফয়জুল আলিম (১১), তিনজনই ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তিন শিক্ষার্থী সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাস পেছন থেকে এসে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ঝিনাইগাতী উপজেলা হাসপাতাল থেকে সাকিবুল ও জাকারিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে, গুরুতর আহত ফয়জুল আলিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও শেষরক্ষা হয়নি-চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেও মারা যায়।
শেরপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আনিকা আফরিন প্রমা দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আল-আমিন জানান, “দুর্ঘটনার পর ঘাতক মাইক্রোবাস ও চালককে আটক করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
তিন কোমলমতি শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে রাংটিয়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাদ্রাসা শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয়রা সবাই তাদের এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক আর ক্ষোভে ভরে উঠেছে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া।
শেরপুরের এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, দেশের সড়কে নিরাপত্তার চরম অভাব এখনো রয়ে গেছে। বিশেষত শিক্ষার্থী ও শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, দ্রুতগতির যান নিয়ন্ত্রণ, স্কুল–মাদ্রাসা এলাকাকে ‘সেফ জোন’ ঘোষণা এবং জনগণের সচেতনতাও বাড়াতে হবে।
কিওয়ার্ডস: শেরপুর দুর্ঘটনা ২০২৫, মাদ্রাসা ছাত্র সড়ক দুর্ঘটনা, ঝিনাইগাতী সড়ক দুর্ঘটনা, মাইক্রোবাসের ধাক্কা মৃত্যু, শিশু শিক্ষার্থী নিহত, শেরপুর নিউজ, বড় রাংটিয়া মোড় খবর, সড়ক নিরাপত্তা বাংলাদেশ, সড়ক দুর্ঘটনা আপডেট