বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তিনদিনব্যাপী শুল্ক ও বাণিজ্য সংলাপের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের গতিপথ নির্ধারণে দ্বিতীয় দিনটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন নেতৃত্ব দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার (Jamieson Greer)-যিনি বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একজন মন্ত্রী-সমমর্যাদার প্রভাবশালী কর্মকর্তা।
দ্বিতীয় দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শেখ বশির উদ্দিন ও গ্রিয়ারের মধ্যকার একান্ত বৈঠক, যেখানে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি, শুল্ক কাঠামো এবং রপ্তানি-আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
শেখ বশির উদ্দিন বলেন-“বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির পাশাপাশি আমদানিও বাড়াতে আগ্রহী এবং এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। তবে শুল্ক কাঠামোয় আমাদের ন্যায্যতা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য পরিবেশ যেন প্রতিযোগিতামূলক থাকে, সে বিষয়েও জোর দেয়া হয়েছে।
ঢাকা থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। এছাড়া ওয়াশিংটনে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা।
আলোচনার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়- “দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে দুই দেশ মৌখিকভাবে একমত হয়েছে, তবে কিছু ইস্যু এখনো মীমাংসার অপেক্ষায়।”
শুক্রবার (১১ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হবে তৃতীয় তথা শেষ দিনের আলোচনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এদিন আলোচনায় উঠে আসবে-
প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশে শুল্ক হ্রাস
কৃষিপণ্য ও ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে শর্ত সহজীকরণ
শ্রম-পরিবেশ ও টেকসই উৎপাদন বিষয়ক অঙ্গীকার
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানির বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রমুখী, বিশেষ করে গার্মেন্টস, আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যাল ও কৃষিপণ্য খাতে।
তবে দীর্ঘদিন ধরেই শুল্কের ভার, রপ্তানি কোটা, ও টেকনিক্যাল ব্যারিয়ারস টু ট্রেড (TBT) ইস্যুতে বাংলাদেশ এক ধরনের বৈষম্যের শিকার বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এই আলোচনা যদি ফলপ্রসূ হয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার ও বাজার প্রতিযোগিতা আরও সহজতর হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপ:
প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের আলোচনা ইতিবাচক
গ্রিয়ার-বশির একান্ত বৈঠকে গভীর আলোচনার অগ্রগতি
তৃতীয় দিনে আসছে ট্যারিফ হ্রাস ও প্রযুক্তি হস্তান্তর ইস্যু
বাংলাদেশ আমদানি বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে
পরিবেশগত প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা চেয়েছে বাংলাদেশ
কিওয়ার্ডস: বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা ২০২৫, US-Bangladesh trade talks update, Sheikh Bashir Uddin trade advisor, Jamieson Greer Bangladesh meeting, শুল্ক আলোচনা বাংলাদেশ-আমেরিকা, ইউএস ট্যারিফ রিফর্ম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আমদানি রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫, শুল্ক কাঠামো আলোচনা ওয়াশিংটন