দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে আরও এক নাটকীয় মোড়-দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার হলেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আদালতের নির্দেশে সিউলের একটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে তাকে।
সিউলের একটি আদালত আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, ইউন সুক ইওল চলমান মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করতে পারেন। এই আশঙ্কার ভিত্তিতেই আদালত তার বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে পুলিশ তাকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গ্রেপ্তার করে এবং সিউলের একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করে।
৬৪ বছর বয়সী ইউনকে বর্তমানে যেই সেন্টারে রাখা হয়েছে, সেখানেই তিনি এ বছরের শুরুতে ৫২ দিন ধরে আটক ছিলেন। তখন কৌশলগত কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তখনই সাবধান করেছিলে-এটি ছিল কেবল "অস্থায়ী শ্বাস প্রশ্বাস"।
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ায় ঘটে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। যখন পার্লামেন্ট সামরিক আইন জারির পরিকল্পনা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ইউন সুক ইওল সংসদে সশস্ত্র সৈন্য পাঠিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপ নেন।
এটিকে বিশ্লেষকরা বলেন, “ডেমোক্রেসির ওপর সরাসরি হামলা”। ওই ঘটনার পর দেশটিতে শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা, যা এখনো থামেনি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে জোরপূর্বক পদচ্যুত ও গ্রেপ্তার করা হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারের আগেও ইউন তার প্রেসিডেন্সিয়াল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বহুদিন ধরে পুলিশের অভিযান ব্যর্থ করেন। অবশেষে রাষ্ট্রীয় আইন ও বিচারব্যবস্থা দৃঢ় অবস্থান নিলে তিনি আটক হন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ইউন সুক ইওলের দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এ ঘটনাকে “গণতন্ত্রের বিজয়” হিসেবে দেখছে, আর সমর্থকরা একে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে বর্ণনা করছে।
দেশটির প্রধান বিরোধীদল "ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইউনিটি" এক বিবৃতিতে বলেছে:“অবশেষে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়-এটাই প্রমাণ হলো।”
অন্যদিকে ইউন সুক ইওলের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, “এটি একটি সাজানো মামলা এবং সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।”
আইনজীবীদের মতে, আদালত আগামী সপ্তাহেই তার বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু করবে। আর যদি দোষী প্রমাণিত হন, তবে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
সারসংক্ষেপ:
গ্রেপ্তার তারিখ: ১০ জুলাই ২০২৫
দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার
অভিযোগ: রাষ্ট্রদ্রোহ, আলামত ধ্বংসের চেষ্টা
পূর্ববর্তী ঘটনা: সংসদে সেনা পাঠিয়ে সামরিক দখলচেষ্টা
বর্তমান অবস্থা: সিউলের হাই-সিকিউরিটি ডিটেনশন সেন্টারে আটক
পরবর্তী শুনানি: আগামী সপ্তাহের শুরুতে প্রত্যাশিত
কিওয়ার্ডস:দক্ষিণ কোরিয়া প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার, ইউন সুক ইওল দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার, সিউল রাজনৈতিক সংকট ২০২৫, Korean President coup attempt, South Korea political crisis, ইউন সুক ইওলের বিচার, South Korea detention news, সামরিক দখল চেষ্টা কোরিয়া, Shocking arrest Korean ex-president