২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের অভ্যুত্থানচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে।
বুধবার (৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত থাকা দুই সাবেক মন্ত্রীর আবেগঘন আচরণ court room-এ উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।
সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ডা. দীপু মনিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলা হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাকে বারবার তসবিহ হাতে জপ করতে দেখা যায়। শুনানিকালে ছিলেন দৃঢ় ও নির্বিকার। আদালতের নির্দেশে পুনরায় হাজতখানায় নেওয়ার সময়ও তার হাতে তসবিহ ছিল।
অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ১০টায় একই মামলায় আদালতে হাজির করা হয় জুনাইদ আহমেদ পলককে। নিরাপত্তার জন্য হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় তাকে আনা হয়। কাঠগড়ায় তোলা হলে আদালতের বারান্দার দিকে তাকিয়ে স্বজনদের উদ্দেশে চোখের ইশারায় কিছু বোঝানোর চেষ্টা করেন পলক। একপর্যায়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। তার কান্নায় বারান্দায় উপস্থিত স্বজনরাও আবেগে ভেঙে পড়েন।
জানা যায়, গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ১৫ আগস্ট খিলক্ষেত থানা এলাকার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় জুনাইদ আহমেদ পলককে। একইভাবে ১৯ আগস্ট বারিধারা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ডা. দীপু মনিকে। দুজনই তখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে ছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।
তারা উভয়েই জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে দায়েরকৃত একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ইতোমধ্যে রিমান্ডে ছিলেন।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, তারা প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্তে নতুন অগ্রগতি পেয়েছেন। সে কারণে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় এই দুই নেতাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, "আসামিরা ওই সময় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ইন্ধন দিয়েছেন—এমন তথ্য আমাদের হাতে এসেছে।"
আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে এই গ্রেপ্তার এবং আদালতের পরিস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে “আইনের যথার্থ প্রয়োগ” হিসেবে দেখলেও, অন্যরা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র আইনজীবী বলেন, "গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের বিষয়টি আইনগত হলেও, তার পেছনের প্রেক্ষাপটকে অস্বীকার করা যাচ্ছে না। সময়ই বলবে-এই মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ, নাকি প্রকৃত অপরাধের তদন্ত।"
কিওয়ার্ডস:
দীপু মনি গ্রেপ্তার ২০২৫, পলক কান্না আদালত, অভ্যুত্থান মামলা ২০২৪, জুলাই আগস্ট অভ্যুত্থান বাংলাদেশ, যাত্রাবাড়ী মামলা, ICT প্রতিমন্ত্রী গ্রেপ্তার, সাবেক মন্ত্রীদের রিমান্ড, তসবিহ হাতে দীপু মনি, হাউমাউ পলক কাঁদলেন, রাজনৈতিক মামলা বাংলাদেশ ২০২৫