বহুমুখী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং বাজার সংকোচনের মধ্যেও তৈরি পোশাক খাতে বিশ্ব রপ্তানি বাজারে দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। যদিও সামান্য প্রবৃদ্ধি থাকলেও বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিসটিকস: কি ইনসাইটস অ্যান্ড ট্রেন্ডস ইন ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। চলতি জুলাই মাসেই WTO-এর ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব তৈরি পোশাক রপ্তানি বাজারে শীর্ষে রয়েছে চীন, দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ, আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। টানা দুই বছর ধরে (২০২৩ ও ২০২৪ সালে) বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ০.২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। অথচ বৈশ্বিক বাণিজ্য একই সময় বেড়েছে ৪ শতাংশ, যেখানে মোট পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
বাজারে প্রবৃদ্ধি,তবে অংশীদারিত্বে হ্রাস,অর্থাৎ, আয় সামান্য বেড়ালেও বাংলাদেশের বাজার হিস্যা কমেছে।
২০২৩ সালে বাজার অংশীদারিত্ব ছিল ৭.৩৮%
২০২৪ সালে সেটি কমে হয়েছে ৬.৯০%
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানী সংকট এবং পশ্চিমা বাজারে মূল্য সংবেদনশীলতার কারণে অর্ডার কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের খুচরা বাজারে স্টক জমে থাকা এবং দ্রুত রোটেশনের ঘাটতিও দায়ী।
চীন এখনও বিশ্বের পোশাক বাজারে অপ্রতিরোধ্য। তাদের সাপ্লাই চেইনের গভীরতা, কাঁচামালের নিজস্ব উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। ভিয়েতনাম ও তুরস্কও ধীরে ধীরে তাদের অবস্থান সুসংহত করছে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের জন্য একটি কঠিন প্রতিযোগিতামূলক সময় আসছে। বিশেষ করে মূল্য প্রতিযোগিতায় টিকতে গিয়ে অনেক কারখানাই কম দামে পণ্য দিতে বাধ্য হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে শ্রমিক নিরাপত্তা ও সুশাসনের ওপরও।
অর্থনীতিবিদ ও পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিমাণ নয়, গুণগত রপ্তানির দিকে নজর দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
‘‘আমরা যদি প্রযুক্তিনির্ভর ও হাইভ্যালু পোশাক তৈরির দিকে না যাই, তাহলে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় অবস্থানও ধরে রাখা কঠিন হবে,’’ বলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এক বিশ্লেষণে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য এখন দরকার-
পণ্যের বহুমুখীকরণ (ডাইভারসিফিকেশন)
টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা ও পরিবেশবান্ধব কারখানা
উচ্চমূল্যের বাজারে প্রবেশের কৌশল
বিদ্যুৎ-জ্বালানি নির্ভরতা কমানো ও নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধি
যদিও দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রাখা গর্বের, কিন্তু বাজার হিস্যার পতন ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক সংকেত। বিশ্বের পোশাক বাজার দ্রুত পরিবর্তনশীল, যেখানে কেবল উৎপাদন নয়-ডিজাইন, ইনোভেশন, প্রযুক্তি ও নীতিগত স্বচ্ছতা বড় ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশকে যদি এই বাজারে নেতৃত্ব ধরে রাখতে হয়, তবে এখনই সময় রফতানি কাঠামোতে যুগোপযোগী রূপান্তর আনার।
কিওয়ার্ডস:
বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানি ২০২৪, তৈরি পোশাক বিশ্ববাজার র্যাংকিং, WTO গার্মেন্টস প্রতিবেদন, বাংলাদেশ vs চীন পোশাক শিল্প, বাংলাদেশ রপ্তানি আয় ৩৮ বিলিয়ন, গার্মেন্টস রপ্তানি বিশ্লেষণ, ভিয়েতনাম পোশাক রপ্তানি, বিশ্ব পোশাক বাজার ২০২৫, বিজিএমইএ রিপোর্ট, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত