টানা কয়েক দিনের বর্ষণে যশোর-খুলনা মহাসড়কের প্রেমবাগ থেকে চেঙ্গুটিয়া পর্যন্ত অংশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কখনো কাদা, কখনো ধুলোর রাজ্যে পরিণত হওয়া এ সড়কে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন হাজারো সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, চালক ও যাত্রী। তবে এই যাত্রা এখন যেন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে জীবনের প্রয়োজনে চলা-যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই অনিশ্চয়তায় ঠাসা।
বিশেষ করে প্রেমবাগ থেকে চেঙ্গুটিয়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় এখন হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য। গর্তে জমে থাকা পানি ও কাদার আস্তরণে পথচারীরা প্রায়ই পা পিছলে পড়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে যানবাহন চালকেরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানালেন, “বৃষ্টি হলে রাস্তাটা নদী হয়ে যায়। আর রোদ উঠলে সেই কাদা শুকিয়ে ধুলোয় রূপ নেয়। ট্রলি-ট্রাকগুলো অবিরত চলে এই রাস্তা দিয়ে, যেগুলোর অনেকেরই কোনো লাইসেন্স নেই।"
ভারী যানবাহন একজন ট্রাকচালক বলেন, “রাত ৩টায় রওনা দিয়েছি, এখনও এক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে পারিনি। অন্তত দুই-তিনটা ট্রাক প্রতিদিন এই গর্তেই আটকে পড়ে।"
একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন মোটরসাইকেল চালক মাহবুব হাসান। তাঁর ভাষ্য, “বৃষ্টিতে স্লিপ খেয়ে পড়ে যাই, আর রোদে এত ধুলো যে চোখে কিছু দেখা যায় না। শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, লাইসেন্সবিহীন মাটি ও বালিবাহী ট্রলি-ট্রাকগুলো নিয়মিত এই মহাসড়কে চলাচল করায় রাস্তার অবস্থা দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে সড়কের এই করুণ চিত্র হতো না। যদিও হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অভিযান চলছে।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, “অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনা রোধে মামলা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
যশোর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহজাদা ফিরোজ বলেন, “আমরা ঠিকাদারকে ডেকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছি। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে, তবে দ্রুতই মেরামতের কাজ শুরু হবে।”
এদিকে সড়কটি দ্রুত মেরামত না হলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। অনেকেই জানান, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী কিংবা কর্মজীবী মানুষদের প্রতিদিন যুদ্ধ করে চলতে হচ্ছে এই সড়কে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, “ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিন কাদা ও ধুলোতে ভিজে স্কুলে যায়। অসুস্থ রোগী নিয়ে এম্বুলেন্স আটকে পড়লে জীবন-মৃত্যুর লড়াই শুরু হয়।”
এই অবস্থার দ্রুত অবসান না ঘটলে একটি মহাসড়ক হয়ে উঠবে মৃত্যুর ফাঁদ-এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
কিওয়ার্ডসঃ
যশোর-খুলনা মহাসড়ক, রাস্তার দুরবস্থা, বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত সড়ক, ট্রলি ট্রাক যানজট, নওয়াপাড়া হাইওয়ে, অবৈধ যানবাহন, রাস্তা সংস্কার, খুলনা সড়ক পরিস্থিতি, বৃষ্টি ও সড়ক দুর্ঘটনা, যশোরের খবর