৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় ‘ধামাকা শপিং’-এর চেয়ারম্যান এম. আলী গ্রেপ্তার,পুলিশের হেফাজতে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-০৬ ০০:৩৮:১৯
image

বহুল আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ধামাকা শপিং’-এর চেয়ারম্যান ডা. মুজতবা আলী ওরফে এম. আলী অবশেষে ভাটারা থানার পুলিশের হেফাজতে। গ্রাহকদের প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা তাকে শনিবার (৫ জুলাই) রাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক একত্রিত হয়ে তাকে চিহ্নিত করেন এবং আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভাটারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে এম. আলীকে হেফাজতে নেয়। পরে থানার সামনে ভুক্তভোগীরা বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন তার গ্রেপ্তারের দাবিতে।
পুলিশ বলছে, এই মুহূর্তে মুজতবা আলী থানায় রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনা পেলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজকের মধ্যেই আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তদন্তে উঠে এসেছে, ধামাকা শপিং কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে ১১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ছাড়া মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে।
এর আগে, ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশে প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা প্রায় ৬২ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে।
গত ১৬ জুন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আল মামুনের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই আদেশ দেন। ক্রোককৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি, ব্যাংক হিসাব, ফ্ল্যাট ও জমি।
ভাটারা থানার সামনে বিক্ষোভরত ভুক্তভোগীরা বলেন, “প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। আজ আমরা তার বিরুদ্ধে ন্যায্য বিচার দাবি করছি। পুলিশ যেন তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনে।”
২০২১ সালে ব্যাপক ক্যাশব্যাক অফারের মাধ্যমে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা সংগ্রহ করে ‘ধামাকা শপিং’। কিন্তু সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করায় অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ে। সেই থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।

ধামাকা শপিং, মুজতবা আলী, ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ই-কমার্স প্রতারণা, সিআইডি তদন্ত, সম্পত্তি ক্রোক, মানি লন্ডারিং, গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ, ধামাকা শপিং মামলা, সকালের আলো ডট কম