৫ ও ১৬ জুলাই পালন হবে ‘গণঅভ্যুত্থান’ ও ‘শহীদ’ দিবস: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাউশির নির্দেশনা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-০৩ ২৩:৩৪:৫৩
image

দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজ আগামী ৫ জুলাই 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' এবং ১৬ জুলাই 'জুলাই শহীদ দিবস' যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের নির্দেশ পেয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) জারিকৃত অফিস আদেশে মাউশির সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত এ তথ্য জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, দিবস দু’টি পালনে প্রতিষ্ঠানে যথাযথ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
সরকার ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে সাধারণ ছুটিসহ জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী ‘ক শ্রেণিভুক্ত দিবস’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “এই দিবসটিকে যথাযথ গুরুত্বসহকারে স্মরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐতিহাসিক চেতনা ছড়িয়ে দিতে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, রচনা প্রতিযোগিতা, দেয়াল পত্রিকা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম আয়োজনের অনুরোধ জানানো হলো।”
একইসাথে, ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে ‘খ শ্রেণিভুক্ত দিবস’ হিসেবে জাতীয় দিবসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই দিবসেও নানা সচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকার ৮ আগস্ট ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৮ আগস্টকে 'নতুন বাংলাদেশ দিবস' হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিলেও বিভিন্ন মহলের আপত্তি ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই মাসের এই দুটি দিবস স্মরণে সরকারি নির্দেশনা আসলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক ইতিহাস ও জাতীয় চেতনা জাগিয়ে তোলার প্রয়াস। বিশেষ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে যে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, তার প্রেক্ষাপট তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস হিসেবেই এ উদ্যোগ দেখা হচ্ছে।
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি আহ্বান: দিবস দু’টি যথাযথ মর্যাদায় পালনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস-সচেতনতা এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন।