রাশিয়ার গভীরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা: সামরিক কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৩

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৭-০২ ০২:০৯:৫২
image

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের উত্তাপ এবার পৌঁছে গেল রাশিয়ার অন্তঃস্থ শহর ইজেভস্ক-এর সামরিক কারখানায়। মঙ্গলবার সকালে উডমুর্তিয়া অঞ্চলের ‘কুপোল ইলেকট্রোমেকানিক্যাল প্ল্যান্ট’-এ ভয়াবহ ড্রোন হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উক্ত কারখানাটি রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উৎপাদন কেন্দ্র, যেখানে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য টর ক্ষেপণাস্ত্র, ওসা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও ড্রোন তৈরি করা হয়। রুশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় এই কারখানার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে দীর্ঘদিন ধরেই এটি ইউক্রেনীয় নজরদারিতে ছিল বলে জানা গেছে।
ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত হয় দুটি দূরপাল্লার কাস্টমাইজড ড্রোন, যেগুলো প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে। ইউক্রেনের এক কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের প্রতিটি আঘাত রাশিয়ার সামরিক উৎপাদন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় এবং এটিও প্রমাণ করে, রাশিয়ার অভ্যন্তরেও এখন আর কোনো অঞ্চল সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।”
বিবিসি কর্তৃক যাচাই করা এক ভিডিওতে কারখানার ছাদে একটি বিস্ফোরণ এবং ঘন কালো ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখা যায়, যা দ্রুত শহরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে আতঙ্কে নগরবাসী রাস্তায় নেমে আসে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।
হামলার পরপরই রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোসাভিয়াটসিয়া ইজেভস্ক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। তবে কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এই কারখানাটি এর আগেও ইউক্রেনীয় হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসেও এখানে ড্রোন হামলা হয়েছিল, তবে সেবার কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এবারের হামলা পূর্বের চেয়ে বেশি সুনির্দিষ্ট এবং ধ্বংসাত্মক বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
উডমুর্তিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার ব্রেচালভ নিশ্চিত করেছেন যে এই হামলার বিষয়টি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার কেন্দ্রস্থলে বারবার ইউক্রেনের এমন ড্রোন হামলা কেবল প্রতীকী নয়, বরং কৌশলগত এক বার্তা-রাশিয়ার “অভ্যন্তর” আর নিরাপদ নয়। অন্যদিকে, ইউক্রেন এর মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রকে সরিয়ে নিয়ে আসছে রাশিয়ার ভৌগোলিক হৃদপিণ্ডে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।