ঢাকায় নতুন সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর: চীন–কোরিয়া অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-০২ ০১:০৮:৪৭
image

বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন সৌদি রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল (পলিসি) অনুবিভাগের কর্মকর্তারা এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা। রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার এই আগমন দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত এপ্রিলে ঢাকাস্থ সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য ছিল। তার বিদায়ের পরপরই কিছু বিতর্ক জন্ম নেয়, বিশেষ করে একটি কথিত মডেলকে কেন্দ্র করে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যা বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং কিছু আন্তর্জাতিক বিবৃতির জন্ম দেয়। তবে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাসময়ে এই পরিবর্তন আনায় কূটনৈতিক শূন্যতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রিধারী ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ সৌদি ফরেন সার্ভিসের একজন মধ্য-জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তিনি চীন ও কোরিয়া সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।
তার কূটনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০০৫ সালে, ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়াতে। এরপর তিনি ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাউস্টন শহরে কনসাল জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৩ সালে তাকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ আফ্রিকা ডেস্কের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে সৌদি দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কোরিয়ায় সফল মেয়াদ শেষে তিনি যান জেনেভা, বহুপাক্ষিক কূটনীতির প্রাণকেন্দ্রে। সেখানে তিনি ২০২১ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
পরবর্তীতে তাকে পাঠানো হয় চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাণিজ্যিক শহর গুয়াংজুতে, যেখানে তিনি সৌদি কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের পদে নিযুক্ত করার উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ঢাকায় এসে ড. আব্দুল্লাহ জাফর তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বললেও, সৌদি দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যকে সামনে রেখে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চান তিনি।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলে সৌদি বিনিয়োগ, হজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন, এবং পূর্বাচলে সৌদি অর্থায়নে নির্মিতব্য কূটনৈতিক চত্বর তার অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং বৃহত্তম রেমিট্যান্স সরবরাহকারী দেশ। প্রবাসী শ্রমিক, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং ধর্মীয় সফর-সব মিলিয়ে রিয়াদ-ঢাকা সম্পর্ক বহুমাত্রিক ও কৌশলগত। তাই এই রাষ্ট্রদূত পরিবর্তন শুধুই প্রথাগত নয়, বরং ভবিষ্যৎ কূটনীতির দিক-নির্দেশকও।